রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে হত্যা মামলার আসামী আলমাছ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা, গ্রেফতার-২

0
792

নিউজ ডেস্ক : মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে হত্যা মামলার আসামী তোফায়েল আহমেদ আলমাছের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। পুলিশি তৎপরতায় সাংবাদিকরা অস্ত্রধারীদের হাত থেকে বেঁচে যায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা বিক্ষুব্ধ শতশত লোকজন আলমাছ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের অবস্থান নেয়।

পরে প্রেসক্লাবে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই আলমাছ বাহিনীর লোকজন প্রেসক্লাব কার্যালয় এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখে। বিষয়টি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে রূপগঞ্জ থানা ওসি, এএসপি এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলে এএসপি ও ওসি রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। এসময় আলমাছ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেফতার হলে আলমাস চেয়ারম্যান সটকে পড়ে। রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় গোটা রূপগঞ্জে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
উল্লেখ, আলমাস চেয়ারম্যানের বিভিন্ন হত্যাকান্ডসহ নানা অপরাধের সংবাদ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করার পর ওই সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।

সে বিভিন্ন সময় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এর জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলা হয়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। মহড়া চলাকালে প্রেসক্লাব ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের লোকজনসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর থেকেই জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ৬৫ সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মঠেরঘাট এলাকার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ঘটে এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনা। গ্রেফতারকৃতরা হলো, উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে দিলিপ ও সরকারপাড়া এলাকার নঈমুলের ছেলে সিব্বির।

প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিক, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুড়াপাড়া এলাকার টঙ্গীরঘাট এলাকার ব্যবসায়ী রাসেল ভুইয়াকে ২০০০ সালের আগষ্ট মাসে প্রকাশ্যে দিবালোকে রাসেল পার্কে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর ওই মামলার প্রধান আসামী তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ। রাসেল হত্যার ঘটনার পর থেকেই আলমাছের উত্থান শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ওই সময় আলমাছ বিএনপি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বিভিন্ন মারপ্যাচের সুবিধা নিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে গত ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যানের অস্ত্রধারী বাহিনী এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানের কথার বাইরে গেলেই হামলা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় সাধারণ মানুষকে।

সাংবাদিকরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের কার্যালয়ের সামনে সশস্ত্র অবস্থায় আলমাছ বাহিনীর সন্ত্রাসী সাদ্দাম, তাহের, সুমন, দিলীপ, সিব্বিরসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন অবস্থান নেয়। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ শুরু করে। এসময় সন্ত্রাসীরা কর্মরত সাংবাদিকদের কয়েক ঘন্টাব্যাপি অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুর একটার দিকে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমাছ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী পিস্তল তাক করিয়ে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আলমাছ সটকে পড়ে।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ধাওয়া করে দুই সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে।

হামলার ঘটনায় তাৎক্ষনিক রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়। রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কলামিস্ট গবেষক মীর আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা (গ-সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজি, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, সাংবাদিক সাত্তার আলী সোহেল, খলিল সিকদার, জিএম সহিদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ ফরিদ মাসুম, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি সাইফুল ইসলাম তুহিন, জিএস সাদিকুৃল ইসলাম সজিব, ইউপি সদস্য আলম হোসেন প্রমুখ। এসময় উপস্থিত সকলে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কলামিস্ট গবেষক মীর আব্দুল আলীম বলেন, কোন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে ছাড় দেয়া হবেনা। প্রেসক্লাব সন্ত্রাসীদের জায়গা নয়। প্রয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবে টানা কর্মসুচী দেয়া হবে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা দুজনকে গ্রেফতার করেছি। সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের পুলিশি নিরাপত্তায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা (গ-সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। প্রেসক্লাবে কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে দেয়া হবেনা। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। চেয়ারম্যান আলমাছ জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেয়া হবেনা। সন্ত্রাসীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার পক্রিয়া চলছে। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জসিমউদ্দিন হামলার ঘটনায় খোঁজখবর নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here