রূপগঞ্জে ৫ বিঘা সরকারী সম্পত্তি জবরদখল করে বালু ভরাট ও টিনের বেড়া

0
835

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক প্রভাবশালী তার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে প্রায় ৫ বিঘা সরকারী সম্পত্তি বালু ভরাট ও টিনের বেড়া দিয়ে বেষ্টুনি স্থাপন করে জবরদখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, দখলে বাঁধা দেয়ায় ওই প্রভাবশালী তার পালিত গুন্ডা বাহিনী দিয়ে স্থানীয় প্রতিবাদি এলাকাবাসীকে মামলা-হামলার হুমকিও দিয়েছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে সরকারী সম্পত্তি দখলে নেয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে, ইতি মধ্যে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিত্বে উপজেলা প্রশাসন সড়েজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি সরকারী সাইনবোর্ডও স্থাপন করেছেন। উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের হাটাব এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীর এলাকায় সরকারী সম্পত্তি জবর দখলের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ঢাকার ইন্দিরা রোড এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ব্যবসায়ী হোসেন মাহমুদ বেশ কয়েক বছর ধরেই মিঠাবো মৌজার হাটাব শীতলক্ষ্যা তীরে খন্ড খন্ড করে জমি ক্রয় করে আসছেন। তার এলাকায় রয়েছে গুন্ডা বাহিনী। গুন্ডা বাহিনীর অন্যতমদের মধ্যে রয়েছেন, আরিফ, রতন ওরফে রাহুল, আতাবর, মনজুর, নজরুল, নিশাদ, রোবেল, রবিউল, মমিন ও খোকনের নাম। আর এ বাহিনী দিয়েই জমি-জমা জবরদখল করান। এছাড়া জমি-জমা ঝামেলা হলে সমাধান করে বাহিনীর সদস্যরা। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হোসেন মাহমুদের খন্ড খন্ড ক্রয়কৃত জমির পাশাপাশি মিঠাবো মৌজায় আর এস ৫ ও ৬ দাগের সরকারী প্রায় ৫ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ৮২ শতাংশ ও বাকি জমি শীতলক্ষ্য নদীর। আর এসব সরকারী সম্পত্তিতে স্থানীয় এলাকাবাসী সবজি, আখসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ফসল করতো।

গত এক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করে হোসেন মাহমুদ তার হুন্ডা বাহিনী দিয়ে সরকারী সম্পত্তি বালু দিয়ে ভরাট শুরু করে। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী সরকারী সম্পত্তি দখলে বাঁধা দেন। এতে যারা বাঁধা দেন, তাদেরকে বিভিন্ন মামলা-হামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে হুমকি দেয়া হয়। ভয়ে প্রতিবাদকারীরা থেমে যায়। এ সুযোগে হোসেন মাহমুদ তার বাহিনীদের দিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে বেষ্টুনি স্থাপন করে জবরদখল করে ফেলে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহানের কাছে অভিযোগ দেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিত্বে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউএনও নুসরাত জাহান ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) আতিকুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারী সম্পত্তি জবরদখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসের পক্ষ থেকে আগামী ২৫ আগষ্টের মধ্যে ভরাট করা বালু সরিয়ে এবং টিনের বেড়া দিয়ে স্থাপন করা বেষ্টুনি সরিয়ে সরকারী সম্পত্তি দখল মুক্ত করে দেয়ার নোটিশ প্রদান করা হয়। এতে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানান।

এদিকে, পার্শবতী আতলাশপুর এলাকার মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে আলী নেওয়াজের বিরুদ্ধেও সরকারী সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। তাকেও সরকারী সম্পত্তি দখলমুক্ত করে দেয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসের নির্দেশনা অমান্য করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে।

এলাকাবাসী সরকারের কাছে দাবি করেন, এ উপজেলায় শত শত ভুমিহীন নিরীহ ও গরীব মানুষ রয়েছে। প্রভাবশালী হোসেন মাহমুদের দখলে থাকা সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার করে ওই সম্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প করে ভুমিহীনদের জন্য ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে হোসেন মাহমুদের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ইতি মধ্যে সরকারী সম্পত্তিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২৫ আগষ্টের মধ্যে সরকারী সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে নোটিশের মাধ্যমে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত না করলে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান করে দখলমুক্ত করা হবে। আর যত বড় প্রভাবশালীই হোকনা কেন, সরকারী সম্পত্তি দখল করতে দেয়া হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here