না’গঞ্জে কিশোরীর জীবিত ফিরে আসা, তদন্ত কর্মকর্তা বরখাস্ত

0
122

প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের সদরে গণধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে তিন আসামি স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর কিশোরী জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় মামলার সাবেক ও তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার জানান, মামলায় দায়িত্বে অবহেলা ও কর্তব্যে গাফিলতিসহ একাধিক অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয়ভাবে তদন্ত চলছে, এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটি প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও জানান, কখনোই কোনো ব্যক্তি অপরাধের দায় একটি পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। এ ঘটনায় যদি তিনি দোষী হয়ে থাকেন এবং তার অপরাধ প্রমাণিত হয় তবে অবশ্যই তার বিচার হবে। বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না অপরাধী যেই হোক।

গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ হয় কিশোরী জিসা মনি। মেয়ে নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত ১৭ জুলাই সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কিশোরীর মা। পরে গত ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন বাবা। পরদিন ওই মামলায় পুলিশ বন্দরের খলিলনগর এলাকার মো. আব্দুল্লাহ (২২), বুরুন্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার ইজিবাইকচালক রাকিব (১৯) ও ইস্পাহানি খেয়াঘাটের নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানকে (৩৬) গ্রেফতার করে।

গত ৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পৃথক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামিরা। স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, ওই স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তারা। বর্তমানে তিনজন কারাগারে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জানতে পারি ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়নি। ঘটনার দিন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহার সঙ্গে ওই কিশোরী দেখা করে। পরে রাতে ইকবাল নামে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। দু’জন বিয়ে করে বন্দর কুশিয়ারা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। গত ২৩ আগস্ট দুপুরে জিসা আক্তার তার মা রেখা আক্তারকে ফোন দিয়ে টাকা চায়। পরে সকালে পুলিশ কুশিয়ারা থেকে জিসা আক্তারকে উদ্ধার করে এবং তার স্বামী ইকবালকে আটক করে।

এদিকে কিশোরী জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন যুবকের পরিবারের অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন রিমান্ডে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে তাদের তিনটি পরিবারের কাছ থেকে ৪৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপরও রিমান্ডে নির্যাতন করে, ভয় দেখিয়ে তাদের স্বীকারোক্তি আদায় করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট এসআই শামীমকে সদর থানা থেকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here