কারখানার ভেতরে ও বাইরে নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি, কারখানা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি

0
146

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেড নামে একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৫২ জন নিহত হয়। লাশের অপেক্ষায় স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না।

রবিবার দুপুরের কারখানার সামনে ও কারখানার বাহিরে নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা আহাজারি করতে দেখা গেছে। স্বজনদের একটাই দাবী, সকলেই তাদের স্বজনদের লাশ দ্রুত ফিরে পেতে যায়। আর এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় রূপগঞ্জের চারপাশ শোকাহত। স্বজনদের কান্নায় কারখানার চারপাশ ভারী হয়ে গেছে। স্বজনরা সকলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডিএনএর নমুনা দিয়ে আসেন। তবে তিন সপ্তাহ পরে লাশ শনাক্ত হবে জানায় ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকান্ডের ভবনের চতুর্থতলার সেলিনা আক্তার (১৩) এর বোন বাবা সেলিম মিয়া। মেয়েকে হারিয়ে পাগল প্রায় সেলিম মিয়া। বারবার দৌড়ে চলে যায় ওই ভবনটির সামনে। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন, একবার মাইডারে তোমরা দেখতো দেও বাবা। আমার মাইয়ারে কেন কাজে পাঠাইলাম।

পাগল হয়ে কারখানার সামনে ঘুরছিলো কম্পা রানী বর্মণের মা সুমা রানী বর্মণ ও তার পরিবারের লোকজন। তাদের সঙ্গে শেষবারের কথা হয়েছিল সন্ধ্যায় কম্পারানীর শেষ কথা হয়েছিল ’ মাগো আমারে বাচাঁও’। আমি শ্বাস লইতে পারতাছি না। আমি বুঝি তোমাগো দেখতে পারমু না।

কারখানার বাইরে কাদঁছিলেন নিখোঁজ তুলি আক্তারের মা ও বাবা আব্দুল মান্নান এক মধ্য বয়সী নারী আর বলছিলেন, একবার মা কইয়া ক আমারে। আমি তোরে ছাড়া কেমনে থাকমু। কারখানার মালিকরা সবটি গেট বন্ধ কইরা দিছিলো। প্রত্যেকটা গেট তালা দিয়ে সবটি মানুষটিরে মারছে।

এদিকে, গত রবিবার সকালে গিয়েও ওই ভবনটি ধোয়া বের হতে দেখা গেছে। ভবনটির বেশকিছু অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। ভবনের পলেস্থরা ও বেশকিছু অংশ ধসে পড়েছে। ফাটলের দেখা দেওয়ার কারণে ভবনটিকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ঝুকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দেয়। ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটির আশপাশে থাকা বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। যেকোন সময় ভবনটি ভেঙ্গে পড়তে পারে।

ভবনটির পাশে বসবাসকারী টিটু মিয়া জানান, শুনেছি ভবনটি ঝুকিপূর্ণ। ভবনটি যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। এতে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এ কারণে ভবনটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভেঙ্গে ফেলার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে, ভবনে কিছু অংশে এখনো ধোয়া উঠতে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের কোন কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। নতুন করে আবার ধোয়া উঠতে দেখেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেলে রূগপঞ্জের কর্নগোপ এলাকার হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে ৫২ জন নিহত হয়। তবে চতুর্থতলাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকায় ওখানকার কোন শ্রমিকই বের হতে পারেনি। ওইতলা থেকে৪৯ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩০ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। এ ঘটনায় তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ আগুনের ঘটনায় ভুলতা ফাড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজিম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে হাসেম ফুডের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমসহ আটজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিল্ডিং কোড না মেনে অব্যবস্থাপনায় এ ভবনটি নিমার্ণ করা হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস। এ ভবনটি নির্মাণের সময় কোন নিয়মই মানেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামীলীগের একটি প্রতিনিধি দল ও গণস্বাস্থ্যের ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ ও গন সংহতির পরিষদের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here