কাঞ্চনে মধ্যযুগীয় কায়দায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নির্যাতন : অধ্যক্ষ ও শিক্ষক গ্রেপ্তার

0
339

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মধ্যযুগীয় কায়দায় ফাহিম (১৩) নামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আয়রনের ছ্যাকা ও মাটিতে আছড়ে দিয়ে মাথা থেতলে দেওয়ার ঘটনায় নির্যাতনকারী শিক্ষক ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী দক্ষিণপাড়া এলাকার মাদ্রাসাই সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নরসিংদী জেলার মধাবদী থানার ময়শাদি এলাকার আবু বক্করের ছেলে শাহ-পরান ও শাহজালাল। এর আগে, গত বুধবার রাত থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এসময় শিক্ষক শাহ-পরান ও শাহজালালের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই শিক্ষার্থীর নানা শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা এজাহার ও ওই শিক্ষার্থীর নানা শহিদুল্লাহ জানান, গত (১৯ জুন) শনিবার সকালে মাদ্রাসা শিক্ষক শাহ-পরান মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ফাহিমকে কাপড় ইস্তিরি করার আয়রন দ¦ারা পশ্চাৎদেশ ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা পুড়ে ফেলেন। এসময় ওই শিক্ষক শাহপরান পা উপরের দিকে দিয়ে মাটিতে (ফ্লোরে) ফাহিমকে আছড়ে দিয়ে মাথা থেতলে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেত্রাঘাত করে গুরুতর জখম করে।

 

পরে নির্যাতনের বিষয়টি মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ শাহ জালালকে জানালে শাহপরান তার ভাই হওয়ায় তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চান। এ উদ্দেশ্যে চিকিৎসার জন্য প্রতিবন্ধি ফাহিমকে মাদ্রাসা থেকে বের হতে না দিয়ে তিনি নিজেই ঔষধ এনে দেন। নির্যাতনের বিষয়টি বাইরে না জানানোর জন্য শাহ-পরান ও শাহজালাল দুই ভাই মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখান।

 

গত বুধবার (২৩ জুন) ভোরে ফাহিম মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, এ ঘটনার ওই শিক্ষার্থীর নানা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় দুই অভিযুক্ত শাহপরান ও শাহজালাল নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here