ভোলাবতে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতি, ভোগান্তি চরমে

0
459

জাহাঙ্গীর মাহমুদ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের প্রায় ৫৫ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজের ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সড়ক নির্মাণে ধীরগতির কারণে সড়ক গুলো বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা এলাকাবাসীর।

জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের প্রায় সবকটি রাস্তার অবস্থাই বেহাল। বেহাল রাস্তা দিয়ে চলাচলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এ ইউনিয়নের বেহলা সড়ক গুলো নতুন করে নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীর অনেক দিনের। এ নিয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক)সহ উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরাপন্ন হয়। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর চেষ্টায় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক)সহ সকলের সহযোগীতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৯ সালের শেষে দিকে স্বর্ণখালী বাজার-ছনপাড়া ৭.৩০ কিলোমিটার সড়ক, আতলাপুর-ডাঙ্গা ৪.৬০ সড়ক ও স্বর্ণখালী বাজার- ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩.৯ কিলোমিটার সড়ক ও এর সঙ্গে ৫ ছোট ব্রীজের জন্য ৫৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩ টাকা ব্যায়ের দরপত্র সম্পন্ন হয়। এ সড়ক তিনটির দরপত্র পায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেবি অফ এনসিইএল-পিডিএল। দরপত্র শেষে ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর থেকে মোট প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কচ্ছপ গতিতে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে ২৯ জুন সড়ক গুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সিংহভাগ রাস্তা নির্মাণই বাকী রয়েছে। দুই মাসের মাঝে সিংহভাগ বাকী কাজ শেষ করতে পারবেন কিনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে ক্ষোদ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, উপজেলা ভোলাব ইউনিয়নের স্বর্ণখালী বাজার-চনপাড়া সড়ক, আতলাপুর-ডাঙ্গা সড়ক ও স্বর্ণখালী বাজার- ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিনটি সড়কের প্রায় মোট ১৬ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ চলাচল করে। এ তিনটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। রাস্তার মাঝে ছোট বড় খানাখন্দে ভরপুর ছিল। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বেহাল রাস্তা গুলো নির্মাণের দরপত্র হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতিতে সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে সড়ক গুলো ধূলায় ধূসরময় হয়ে থাকে আর বর্ষাকালে সড়ক গুলো চষা ক্ষেতে পরিনত হয়। শীতকাল শেষে হয়ে আবার বর্ষা মৌসুম চলে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির যেন অন্ত নেই। দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান এলাকাবাসী। নয়তো প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সকল পন্য বর্জন করবে এলাকাবাসী হুশিয়ারি দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বর্ণখালী বাজার-চনপাড়া ৭.৩০ কিলোমিটার সড়ক, আতলাপুর-ডাঙ্গা ৪.৬০ সড়ক ও স্বর্ণখালী বাজার- ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩.৯ কিলোমিটার সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাস্তার কাজের জন্য রাস্তা কেটে রাখলে রাস্তাটির নির্মাণ ধীর গতিতে চলছে। এতে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কথা হয় পূবেরগাঁও এলাকার বাসিন্দা সবুর মিয়ার সঙ্গে তিনি জানান, রাস্তার ছোট বড় গর্তের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা দায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখানো নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির গাফলতির কারণে নির্মাণ কাজ ব্যহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হিমেল নামে এক যুবক জানান, রাস্তা নির্মাণের জন্য রাস্তা খুরাখুরি করা হলেও রাস্তাটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে কাদার সৃষ্টি হয় আর শুষ্ক মৌসুমে ধূলার জন্য এলাকাবাসী হাটতে পারেনা। এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচলও অনেকটা দূষ্ক হয়ে পড়ে।

ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, বেশকয়েকবার প্রাণ আরএফএলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে সড়ক গুলো নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। আমি বেশকয়েকবার প্রাণ আরএফলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সড়ক তিনটি নির্মাণ শেষ করতে বললেও তারা তা করেনি। রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় রাস্তা গুলো নির্মাণ শেষ না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি যদি নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ না করে তাহলে এলাকাবাসীকে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। এছাড়া এলাকাবাসী প্রাণ আরএফএলের সকল পন্য বর্জন করবে বলে ঘোষণা দেন।

উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) স্যারের নির্দেশনায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশকয়েকবার মিটিং করেছি। আবার আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করে ব্যবস্থা নিব।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মোরশেদ আলম বলেন, সড়ক নির্মাণে আমাদের কোন গাফলতি নেই। আমরা যতবারই রাস্তা গুলোর কাজ করতে গিয়েছি ততবারই স্থানীয় লোকজন বাঁধা প্রদান করে এ কারণে আমরা কাজ করতে পারিনি। সড়ক গুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে গত সোমবার (৩ মে) উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। তারা যেভাবে আমাদের গাইডলাইন দিয়েছে আমরা সেভাবেই কাজ করবো। নির্দিষ্ট সময়ে আগেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) বলেন, জনগনের চলাচলের চিন্তা করে অনুমোদন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কাজটি দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। কাজ সমাপ্ত করার জন্য বার বার চাপও দেয়া হচ্ছে। সময় মতো কাজ সমাপ্ত করতে না পারলে বা অবহেলা করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here