শীত যায় যায়, কাপড় আছে ক্রেতা নেই

0
283
জাহাঙ্গীর মাহমুদ ; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকার অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের বাজার গাউছিয়া মার্কেটসহ উপজেলার সকল মার্কেটগুলোতে শোভা পাচ্ছে রংবেরং এর বাহারি শীতের কাপড়। দোকান গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতবস্ত্র থাকলেও নেই তেমন ক্রেতার ভীড়। করোনার পরেও ক্রেতাদের সমাগম না থাকায় ঘুরে দাড়াতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। এবছর ৪-৫ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে বলে ব্যবসায়ী সমিতি ধারনা করছেন।
জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরম কাপড়ের দাম পিস প্রতি ৪০-৫০ বেশি দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে। কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, বছরজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাব থাকায় হয়তো দাম কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতা না থাকায় বেশি দাম দিয়ে কাপড় কিনেও বিক্রি করতে পারছেননা তারা। তবে তাদের ধারণা শীত বেশি হলে গরম কাপড়ের ক্রেতা বাড়বে।
উপজেলার ভুলতা, গাউছিয়া মার্কেট, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও কায়েতপাড়া  এলাকা ঘুরে দেখা যায় ফুটপাতে কিংবা রাস্তার ধারে চৌকি ও টেবিল বসিয়ে ও মার্কটগুলোতে বিভিন্ন দামের শীতের কাপড় সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। তবে তুলনামূলক ক্রেতা সংখ্যা কম গতবছরের তুলনায় শীতবস্ত্র বিক্রি কম হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সাথে, শীত পড়লেও তেমন না পড়াতে শীতের পোশাকের প্রতি আগ্রহ কম। তবে শীত বাড়লে অনেকেই গরম কাপড় কিনতে ভীড় করার কথা। আর ঢাকার খুব সন্নিকটে হওয়ায় খুব অল্প কয়েকদিন শীত থাকে এজন্য এখনই গরম কাপড় কেনার প্রয়োজন তেমন হচ্ছে না।
গাউছিয়া মার্কেটের পুতুল ফ্যাশনের মালিক দিপু সারোয়ার বলেন, ব্যবসা খুবই খারাপ যা অন্যান্য বছরের তুলনায় নগন্য। ১৬ বছর যাবত এই মার্কটে দোকান পরিচালনার এবছরের মত এত খারাপ কখনোই হয়নি। পাচ বছর আগেও এক শীত সিজনে ২০/২২ লক্ষ টাকার শীতের পোশাক বিক্রি হতো কিন্তু এবার এখনো ৫ লক্ষ হয়নি। তিনি আরো বলেন সল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা এবার বেকায়দায়।

বেসরকারি এক চাকরিজীবী রাকিব হাসান বাদলের সঙ্গে কথা হয়, তিনি বলেন, অফিস শেষে এখানে আসছি। পছন্দের দামে ফুটপাত থেকে পোশাক কেনা যায় বলে ঘুরে-ফিরে দেখছি। তবে এখন শীত কম রয়েছে বলে গরম কাপড়ের তেমন প্রয়োজন হচ্ছে না।

 

স্কুল-পড়ুয়া আইনুল মিয়া দুইটি ফুল-হাতা মোটা কাপড়ের গেঞ্জি কিনেছেন। জানতে চাইলে সে বলে, এখন তো তেমন শীত নেই, দেখতেই পারছেন সবাই নরমাল কাপড় পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে হালকা শীত থাকায় দুটো ফুলহাতা গেঞ্জি কিনলাম। শীত বেশি পড়লে ব্লেজার, সোয়েটার কিনবো।

 

গোলাকান্দাইল বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ কাউসার বলেন, আমাদের তো ব্যবসা করেই চলতে হয়। কয়েকদিন ঠাণ্ডা আবহাওয়া শুরু হওয়ায় সবধরনের কম্বল তুলেছি। বেচাকেনা খুব খারাপ। প্রতি বছর ১০-১৫ লক্ষ টাকার কম্বল বেচাকেনা করলেও এবছর ৪ লক্ষ টাকা। তবে এখনো তেমন ক্রেতা পাচ্ছি না। শীত বেশি হলে ক্রেতা বাড়বে আবার জিনিসেরও দাম বাড়বে। আর গতবছরের তুলনায় এবার প্রতিটি ১০০/১৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়, বিক্রি করতেও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। এর পেছনে করোনার প্রভাব থাকতে পারে।
সোনারগাঁ এলাকা থেকে আসা ৬ বছর যাবৎ  ফুটপাতের পোশাক ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, প্রতি মঙ্গলবার হাট থাকে ও শুক্রবার কলকারখানা বন্ধ থাকায় বেচাকেনা একটু ভাল হয়। এবারের মত এত খারাপ অবস্থা হয়নি আগে। একেতো ক্রেতা নাই তার উপর প্রত্যেকটি পোশাকে ৪০/৫০ টাকা বেশি দামে ক্রয় করতে হয়। করোনায় ঠিকমত পোশাক পাওয়া যাচ্ছেনা।
গাউছিয়া ব্যবসায়ী সমিতি’র সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, এবছর শীত কম ও করোনা থাকায় ২০১৮-১৯ সালের তুলনায় ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ৪-৫ কোটি টাকার লোকসানে পড়তে হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে যাতে করে ঘুরে দাড়াতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here