করোনা টিকা গ্রহণে আগ্রহ বাড়াতে সরকারি ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

0
276

মাহবুব আলম প্রিয় : বৈশ্বিক মহামারী করোনা থেকে মুক্তিপেতে অক্সফোর্ডের আবিস্কৃত ভারত সরকারের পাঠানো টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। দেশে টিকা আসার আগেই এটি কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে নানা অপপ্রচারে. গুজব আর রাজনৈতিক নানা বিতর্কে সাধারনের মাঝে আগ্রহ কমে যায়। সন্দেহ তৈরী হয়। এতে গুজবের মতো নতুন আতঙ্কে পড়েন দেশবাসি। এদিকে এমন আতঙ্ক কাটাতে সরকারের উচ্চ পদস্থ মন্ত্রী, কর্মকর্তারা একযুগে সারা দেশে টিকা উৎসব পালন করেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে যায় এ টিকাদান কার্যক্রম। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জেও বিগত ৮ ফেব্রুয়ারী সোমবার থেকে চালু হয়েছে টিকা প্রদান কর্মসূচী। গত ১ সপ্তাহে এ উপজেলার প্রায় ২২ হাজারের অধিক মজুদ টিকা থেকে ৫শতাধিক টিকার প্রথম ডোজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। পরবর্তি ডোজ প্রথম টিকার ১ মাস পর নেয়ার তারিখ নির্ধারন রয়েছে।

ইতোমধ্যে ২ হাজারের অধিক লোক রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এ পর্যন্ত রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে টিকাগ্রহণকারী কারোই কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এতে ক্রমেই নিরাপদ মনে করছেন স্থানীয়রা।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাক্তার নুরজাহান আরা খাতুন বলেন, রেজিস্ট্রেশন পক্রিয়ার মাধ্যমে ৪০ বছরের কিংবা এর উর্ধ্বের যে কোন বয়সী ব্যক্তি টিকা গ্রহণ করতে পারবে। তবে টিকা গ্রহণকারী কভিড ১৯ পজেটিভ কিংবা অন্যকোন রোগাক্রান্ত হওয়ার সময় তা গ্রহণ করতে পারবেন না। এমন নানা স্বাস্থ্য বিধির আলোকে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় বিনামুল্যে টিকাদান কর্মসূচী চালু করেছি।

আমিও টিকা গ্রহণ করেছি। এ সময় তিনি আরো বলেন, আর তাতে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টিকা গ্রহণেচ্ছু নিবন্ধনকারীর সংখ্যা। তাই জনসাধারণকে বলবো, আপনারা নির্ভয়ে টিকা নিন; নিরাপদ হোন নিজে। নিরাপদ রাখুন পরিবার ও সমাজকে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, টিকাদান কর্মসূচী সফল করতে শুরুর দিন বিগত ৮ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক),তার সহধর্মীনি তারাবো পৌর মেয়র মিসেস হাসিনা গাজীসহ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীসহ ১৭ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। এভাবে পরের দিন ১৮ জন, ধারাবাহিকভাবে ২৫ জন, ৪৪ জন, ১০১ জন তথা দিগুণ হারে প্রতিদিন বাড়তে থাকে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা।

এদিকে একই সার্ভারে দেশজুরে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ফলে রেজিস্ট্রেশন পেতে হয়রানী হচ্ছেন বলে জানালেন টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক কেউ কেউ। মধূখালী এলাকার বাসিন্দা জামান মিয়া বলেন, আমি নিন্ধনের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ওয়েব সাইটে প্রবেশ করতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট অপারেটর পরে আবার চেষ্টা করতে বলে।

রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা নিবন্ধন কাজে দায়িত্বরত হযরত আলী বলেন, সারা দেশে একযুগে আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। এতে সময় ব্যয় হয় বেশি। টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে আরো সমস্যা তৈরী হবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে লোকবল সংকট থাকায় স্থানীয় স্বেচ্চাসেবীরা টিকাদানে সহায়তা করছেন হাসপাতালের নিয়োজিত লোকজনকে। এতে সাধারন লোকজন বাড়তি সেবা পাচ্ছে। তবে এ সেবা স্থায়ী হবে না ভেবে হতাশা প্রকাশ করেন টিকা নিতে আসা লোকজন। অনির্বাণ ডিজেবল চাইল্ড কেয়ার এর প্রতিষ্ঠান সোহেল রানা বলেন, হাসপাতালে লোকবল কম আমরা জেনেই স্বেচ্চাসেবী হিসেবে কাজ করছি। কোন প্রকার বিনিময় নিচ্ছি না।
টিকাদান কর্মসূচীর ৬ষ্ঠ দিনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান স্বপরিবারে টিকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিকা গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোটাই নিরাপদ। তাই ৪০ বছরের অধিক সকল নাগরিকের টিকা গ্রহণ জরুরি। গুজব না ছড়িয়ে সবাই মিলে এ কর্মসূচীকে সফল করাই হবে সুনাগরিকের কাজ। আমি এ টিকাকে নিরাপদ মনে করেছি তাই স্বপরিবারে নিয়েছি।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফয়সাল আহমেদ বলেন, রূপগঞ্জে ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা। সকল শ্রেণি পেশার লোকজনের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে আ’ওয়ামীলীগ নেতা কর্মীসহ বাদ যায়নি বিএনপি নেতা কর্মীরাও। সাধারণ লোকজনও টিকা নিচ্ছেন প্রতিদিন। এভাবে জেলার এক মাসের মধ্যেই নতুন টিকার চাহিদার প্রয়োজন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here