ভুলতা ফ্লাইওভার এর দুই পাশে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধ

0
322

সাইদুর রহমান: ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায়। এ এলাকায় যানজট নিরসনকল্পে বর্তমান সরকার ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছেন। তাই এখানে এখন আর যানজট তেমন দেখা যায় না। গাউছিয়া পাইকারি কাপড়ের মার্কেট সহ বেশ কয়েকটি কাপড়ের বাজার রয়েছে। এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী গোলাকান্দাইল হাট। রয়েছে শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। রয়েছে পাইকারি, মাছের আড়ত পাইকারি কাঁচাবাজার। প্রায় চল্লিশটি জেলার জনগণ এ এলাকা অতিক্রম করে যাতায়াত করে থাকে। এসব হাট-বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নোংরা ময়লা আবর্জনা ভুলতা গোলাকান্দাইল ফ্লাইওভারের যে সড়ক রয়েছে অর্থাৎ ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের দুই পাশে খেলানো হচ্ছে । প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয় । এদিক দিয়ে যাতায়াত যানবাহনের যাত্রীসহ পথচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন এ দিকে নজর দিচ্ছেন না। পথচারী ও যাত্রীরা প্রচন্ড দুর্গন্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বেশ কয়েকজন যাত্রী ও পথচারীদের সঙ্গে রূপগঞ্জ প্রতিদিনের কথা হয়, তারা জানান, ভুলতা গোলাকান্দাইল ফ্লাইওভারের কারণে এলাকায় যানজট নিরসন হয়েছে। তেমনি এলাকা অনেক উন্নত হয়েছে কিন্তু এসব নোংরা ময়লার ভাগাড় এর কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। এর দিকে নজর দেওয়া দরকার।

এদিকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পথে পথে ময়লার ভাগাড়তো নয়, যেনো ময়লার ভাগাড়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশে পথে পথে ময়লার ভাগাড় জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। মহাসড়কের অনন্ত ১১ টি স্পটে এসব ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহনের যাত্রী কিংবা পথচারীদের দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়। রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী, বরপা, বরাব, বিশ্বরোড, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ বেশকয়েকটি এলাকায় রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারনে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কয়েকদিন পর পর ময়লা পরিস্কার করে নিয়ে যাওয়া হলেও ততদিনে ময়লা আর্বজনা পচেঁ গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, রূপসী, বরপা, বরাব, বিশ্বরোড, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ যে স্থান গুলোতে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সেখানে রয়েছে বাস স্টেশন। এ স্টেশন গুলোতে বাস থেকে প্রতিদিন হাজার যাত্রী উঠানামা করেন উঠানামার জন্য ময়লা দূর্গন্ধে যাত্রীদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারনে ও দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে তারাবো পৌরসভার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত কর্মীরা এসব স্থান থেকে ঠিকমত ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে না বলেও পথচারীরা অভিযোগ করেন। রাস্তার পাশে ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের ফলে সাধারণ মানুষ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে একটি খাল রয়েছে। কল-কারখানা, হোটেল, বাড়ি ঘরের যত ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অথবা সাধারণ মানুষ ভ্যান গাড়িসহ বিভিন্নভাবে এনে খাল ও রাস্তার পাশে ফেলেন। পরে ময়লা গুলোর মহাসড়কের পাশে এনে রাখা হয়। তবে তারাব পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রূপসী, বরপা, বিশ^রোড ও বরাব এলাকার ময়লা কয়েকদিন পর পর ময়লা ট্রাকের মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে গেলেও যতদিনে ময়লা নেওয়া হয় ততদিনে চারদিকে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ময়লার দূর্গন্ধে দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে পথচারীদের যেন দূভোর্গের শেষ নেই। ময়লা আবর্জনা গুলো পচে গিয়ে দূর্গন্ধ্য বাতাসের সাথে মিশে তা পারিবেশ দূষন করছে এবং পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। সেই সাথে মহাসড়কের যে স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় তার আশ-পাশে রোপনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা মরে যাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষে দাবি, ময়লা আবর্জনা গুলো মহাসড়কের পাশে বাস স্টেশনের সাথে না ফেলে অন্যত্র কোন নির্জন স্থানে ফেলা হউক।

সহিদ নামে এক পথচারী জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিদিন তাকে রূপসী এলাকা থেকে বাসে করে অফিসে যেতে হয়। রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে প্রতিদিন তিনিসহ হাজার হাজার যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কখনো বাস তাতাতারি আসে আবার কখনো বাস আসতে দেরি হয়ে যায়। যেদিন বাস আসতে দেরি করে ওই দিন দুর্গন্ধ সহ্য করেই বাসের জন্য দাড়িয়ে থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ময়লা আবর্জনা চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এতে করে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও পথচারীদেরকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

রাসেল নামে এক গাড়ী চালক জানান, তিনি রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে গাড়ী চালাচ্ছেন। রূপসী, বরপা, বরাব, বিশ্বরোড, ভুলতা এলাকার বাস স্টেশনগুলো থাকার কারণে এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী উঠানামা করে। মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে এগুলেঅ পচে চারপাশে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পরছে। এতে করে পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে।

ফজলু মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ মারাত্বকভাবে ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সাথে এসকল ময়লা আবর্জনার ক্ষতিকর পদার্থ কৃষি জমিতে গিয়ে ফসল নষ্ট করছে বলেও জানান তিনি। এসকল কারণে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তারাব পৌরসভার সচিব তাজুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে পারবে না বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটি কেটে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here