১০ বছর ধরে বন্ধ রূপগঞ্জের পাট গবেষণা উপ-কেন্দ্রের পরীক্ষাগার

0
221

আতাউর রহমান সানী : রাজধানী ঢাকার উপ-কণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাট গবেষণা উপ-কেন্দ্র চলছে অনেকটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে। পাট গবেষণা উপ-কেন্দ্রটির পরীক্ষাগার বন্ধ প্রায় ১০ বছর ধরে। সন্ধ্যা হলেই উপ-কেন্দ্রটিতে বসে মাদক সেবীদের রমরমা আসর। মাদক সেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এছাড়া সরকারি কোয়াটার সংস্কারের অভাবে কর্মকর্তাদের অন্যত্র থাকতে হচ্ছে।

এতে করে তাদের যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া লোকবল সংকটের কারণে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার তারাবো পৌরসভার তারাব পৌরসভার যাত্রামুড়া এলাকার পাট গবেষণা উপ-কেন্দ্রে সরেজমিনে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় ও পাট গবেষণা কেন্দ্রের গোপন সূত্রে জানা গেছে, পাট শিল্পকে বাচিঁয়ে রাখতে সরকার ১৯৫৬ সালে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার পাট চাষীদের জন্য রূপগঞ্জ উপজেলার যাত্রামুড়া এলাকায় ১৩.৪৫ একর জমিতে পাট-গবেষনা উপ-কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রথমে এটি শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধীনে থাকলেও পরে কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীনে নেওয়া হয়। এখানে পাট গবেষনা উপ-কেন্দ্রের কর্মকর্তারা পাটের বীজের ফলন ভাল করতে মাঠ পর্যায়ে গবেষনা করে পরে পরীক্ষাগারে বীজের মান পরীক্ষা করা হতো। দেশে ধীরে ধীরে পাট চাষ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে পাট গবেষণা উপ-কেন্দ্রের কার্যক্রমও। তবে নরসিংদীর জেলার পলাশসহ কয়েকটি এলাকা ও আড়াইহাজার রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব, পূবেরগাঁও, চারিতালুক, নগরপাড়াসহ বেশকিছু এলাকায় এখনো পাটের চাষ করা হয়। গত ১০ বছর আগে যন্ত্রাংশ ও পরীক্ষার উপাদানের অভাবে পাটের বীজের মান নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষাগারটি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে পরীক্ষাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ কক্ষটি অফিসের কর্মকর্তাদের খাওয়া দাওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকার পরীক্ষাগারে পাটের বীজের মান নিয়ন্ত্রষণ করতে পাঠাতে হচ্ছে। তবে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বীজ ঢাকার পরীক্ষাগারে নিয়ে যেতে হলেও এখানে মাঠ পর্যায়ে গবেষনা চলছে বেশ ভালভাবেই। গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নরসিংদী ও প্রায় শতাধিক পাটচাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এতে নাম ছিল না রূপগঞ্জ উপজেলার কোন পাটচাষীর। প্রায় ৯০ ভাগ পাটচাষীই রূপগঞ্জ উপজেলার পাট গবেষনা উপ-কেন্দ্রের বিষয়ে জানেন না বলে খোজঁখবর নিয়ে জানা গেছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার পাটচাষীরা বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে সেবা ও প্রশিক্ষণ থেকে। এসকল কারণে গবেষনা উপ-কেন্দ্রটি কোন কাজেই আসছেনা রূপগঞ্জের পাটচাষীদের।

গবেষণা উপ-কেন্দ্রটির কর্মকর্তা কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, পাট গবেষনা উপ-কেন্দ্রটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। গবেষনা উপ-কেন্দ্রটির আশপাশে নির্জন বেশি সংখ্যক ঘরবাড়ি নেই। এছাড়া আশপাশে কোন লাইটিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এখানে এক প্রকার ভূতূরে পরিবেশ বিরাজ করে। তারাবো পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বেশকয়েকবার লাইট লাগানো কথা বললেও তাতে কোন কাজ হয়নি। এছাড়া সন্ধ্যার পর মাদকসেবীরা দেয়াল টপকে গবেষনা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ মাদক সেবন করে। এতে কর্মকর্তারা কিছু বললেই স্থানীয় মাদক সেবীরা তাদের হুমকি ধামকি প্রদান করেন। গবেষনা উপ-কেন্দ্রটিতে সরকারিভাবে কোয়াটারের ব্যবস্থা থাকলেও কোটার গুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। দেয়ালে পলেস্তরা উঠিয়ে গিয়ে ও ভবনের বেশিরভাগ অংশে ভাটল ধরে কোয়াটার গুলোর অবস্থা অনেকটা থাকা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঝুকি নিয়ে কোন কর্মকর্তা সরকারি দেয়া কোয়াটারে থাকেন না।

ফলে কর্মকর্তাদের বাড়ি থেকে এসে যেয়ে অফিস করতে হয় যা অনেকটা কষ্টসাধ্য। এছাড়া গবেষনা উপ-কেন্দ্রটিতে লোকবল সংকটের কারণে মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। গবেষনা উপ-কেন্দ্রটিতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ২ জনের পদের মাঝে ২ টি পদ শূণ্য রয়েছে, জুনিয়র ফিল্ড সহকারী ৩ জন থাকার কথা থাকলেও ২ জন রয়েছে, মাঠ পরিদর্শকের একটি পদ থাকলেও সেটিও শূন্য রয়েছে, গবেষনা উপ-কেন্দ্রটিতে একজন মাত্র পাহাড়দার রয়েছে।

গবেষণা উপ-কেন্দ্রটির উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (এসএসও) এসএম শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, এখানকার পাট গবেষনা উপ-কেন্দ্রটি কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীনে। এখানে মাঠ পর্যায়ে পাটের গবেষণা চলছে। তবে বীজের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকায় পরীক্ষাগারে পাঠাতে হয়। সরকারি কোয়াটার সংস্কারের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ ব্যাপাারে আমি রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছি। পাটের উন্নত জাত বের করতে ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাটচাষীদের পাট চাষ সম্পর্কে আরো ভাল ধারণা দিতে আমরা চেষ্টা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here