মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৭ দিনের মধ্যেই ফের উৎপাদনে যাবে প্রথম ইউনিট
প্রকাশ: সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে ফের শুরু হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। আর দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে গত ২৮ জুন। বর্তমানে লোড টেস্টিংয়ের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সব প্রস্তুতি শেষে দ্বিতীয় ইউনিটও শিগগিরই বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

এদিকে এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনও কয়লা সংকট নেই। আগামী তিন বছরের জন্য ৮০ লাখ টন কয়লার জোগান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন লোডে ইউনিটটির উৎপাদনক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় প্রথম ইউনিটে। আর বর্তমানে দ্বিতীয় ইউনিটটির নির্মাণকাজ শেষে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত ২৮ জুন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয় এই ইউনিটের বিদ্যুৎ। এখন ধাপে ধাপে লোড টেস্ট চলছে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের ডিজিএম (এইচআর ও পিআর) আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, গত ৭ জুলাই ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে একটি জাহাজ পৌঁছেছে। তা ছাড়া বর্তমানে পাওয়ার প্ল্যান্টে ২০ হাজার টন কয়লা মজুত আছে। শুধু তা-ই নয়, আগামী তিন বছরের জন্য ৮০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহের নিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টে এই কয়লা পর্যায়ক্রমে আসবে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু থাকলে প্রতিদিন আট হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হবে।

বিআইএফপিসিএলের প্রকল্প পরিচালক অতনু দত্ত জানিয়েছেন, রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিটির বাণিজ্যিক উৎপাদানের অপেক্ষায় আমরা। ইতোমধ্যে রেকর্ড সময়ের মধ্যে আমরা দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছি। কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের জনগণ রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সুফল পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাগেরহাটের রামপালে নির্মিত হয়। কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে। ১৭ ডিসেম্বর রাত থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এলসি জটিলতায় আমদানি ব্যাহত হওয়ায় কয়লা সংকটে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে প্রথমবার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়। এরপর কয়লা সংকটে ধারাবাহিকভাবে এখানে উৎপাদন বন্ধ হয়।

২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় । রমাপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী কৈ-গর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই শুরু হয় জমি ভরাট ও সড়ক নির্মাণের কাজ। প্রায় ৯ বছর বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গেল বছরের ১১ জুলাই বয়লার স্টিম ব্লোয়িং স্থাপন করা হয়। এক মাস পর ১৪ আগস্ট টারবাইন-এ স্টিম ডাম্পিং এবং এক দিন পর ১৫ আগস্ট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ (ট্রান্সমিশন) শুরু করা হয়। পরে ১৭ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত হয় এখানের বিদ্যুৎ।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ