রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

প্রবাস ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে যার যার অবস্থান থেকে সৌদি প্রবাসীদের দেশের জন্য কাজ করার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার)। তিনি আজ সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় একথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, শহীদের আত্মত্যাগ সার্থক করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ভর একটি অসাম্প্রদায়িক উন্নত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ বিকালে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এসময় দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনা সভায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রদূত গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার দুরদর্শী নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি।

বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ও নির্যাতিত সকল মা- বোনদের। রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসে দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বিক্রমের সামনে টিকতে না পেরে যখন আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তার অব্যবহিত পূর্বে বাঙালি জাতিকে মেধাশুন্য করার নীলনকশা প্রণয়ন করে।

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্বাধীন বাঙালি জাতিকে মেধা-মননহীন করে তুলতে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান—শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ সমাজে সৃজনশীলতায় অগ্রণী মানুষদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি সহায়তা করেছিল তাদের দোসর এ দেশের রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামের ঘৃণিত, ধিকৃত কিছু কুলাঙ্গার।

তাঁরা চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে মেধাহীন পঙ্গু জাতিতে রুপান্তর করতে, যাতে স্বাধীনতা অর্জন করলেও এ জাতি যেন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। যে জাতিকে তাঁরা মেধাহীন পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল সে জাতি আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০৪১ সালে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাসের কাউন্সেলর মোঃ বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য প্রদান করেন দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যূলার) এস এম রাকিবুল্লাহ, মিনিস্টার (ইকোনমিক) মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান, কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) মোঃ হুমায়ূন কবির ও অন্যান্য কর্মকর্তাগন। সভার শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ