মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল
প্রকাশ: রবিবার, ০৭ মে ২০২৩, ০৩:৫৪ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে বিদ্যুতের লাইনের বা টেলিফোনের খুঁটিতে ঝুলতে দেখা যায় ল্যান্ডফোনের ক্যাবল, ইন্টারনেট ক্যাবল, ডিশ সংযোগের ক্যাবল। এগুলো ঝুলন্ত তার বা ওভার হেড ক্যাবল। এই ক্যাবলগুলো প্রয়োজনীয় হলেও রাজধানীবাসীর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুলন্ত তার সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও কাজটি কখনোই ‍পুরোপুরি হয়নি।

গত বুধবার (৩ মে) দুপুরের পর রাজধানীর পান্থপথে ঝুলন্ত তার কেটে নিয়ে যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন। তাদের চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন তার (ক্যাবল) এনে লাইন মেরামত করে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় সচল করে। এমন দৃশ্য ঢাকাবাসী গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতই দেখে আসছে।

নগরের সৌন্দর্য বর্ধনের সঙ্গে নিয়োজিতরা একদিক থেকে সড়ক থেকে তারের জঞ্জাল কেটে সরিয়ে নিয়ে যান। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতারা ক্যাবল জুড়ে দিয়ে সেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালান। রাজধানীর কিছু এলাকার প্রধান প্রধান সড়কের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব তারের জঞ্জাল কিছু সরানো হয়েছে। তবে অলি-গলি বা সাব রোডে এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে যেখানে এনটিটিএন (ভূগর্ভস্থ ক্যাবল লাইন সেবাদানকারী) প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবা পৌঁছাতে পারেনি সেসব এলাকায় এখনও সড়কে ঝুলছে তারের জঞ্জাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, ‘ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনে অনেক কাজ হয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অনেক তার নামেনি। এ জন্য কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধানমন্ডিতে আমরা সলিউশন পেয়েছি, ফলে অনেক তার নামাতে পেরেছি। সলিউশন বা বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করে দিলে আমরা মূল সড়ক থেকে সব তার নামিয়ে ফেলতে পারবো।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে আইএসপিএবির বৈঠক হয়। বৈঠকে বিটিআরসির ইঅ্যান্ডও বিভাগের মহাপরিচালক, দুই এনটিটিএন (নেশন ওয়াইড টেলিকমিউশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক)-এর প্রতিনিধিসহ আরও অনেকেই ছিলেন। বৈঠকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আইএসপিএবির কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন তারা এখনও ওভারহেড ক্যাবলের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছেন? জবাবে জানানো হয়, সব জায়গায় এনটিটিএন সার্ভিস না থাকায় তারা ঝুলন্ত তারের মাধ্যমে সেবা দেন। এনটিটিএন প্রতিনিধিরা জানান, সব জায়গায় তাদের সেবা চালু রয়েছে। দুই দিক থেকে দুই রকম কথা আসায় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সরেজমিনে বিষয়টি দেখার।

সরেজমিনে বিষয়টি দেখার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ঝুলন্ত তার অপসারণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এই সময়ের মধ্যে ঝুলন্ত তার অপসারণ না করলে করপোরেশন অভিযান চালাবে বলে ঘোষণাও দেয়। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিযানের পরে আইএসপিএবির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দক্ষিণের মেয়র আইএসপিএবিকে বিকল্প সমাধান নিয়ে সেখানে সেবা দিতে বলেন।

এর আগে একই বছরের (২০২০) ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর ছয়টি এলাকার ঝুলন্ত তার অপসারণ না করলে ৩০ মের পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে বলে ইন্টারনেট এবং ডিশ লাইন সরবরাহকারীদের জানান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

পরবর্তী সময়ে রাজধানীর ঝুলন্ত তার অপসারণের সময় আবারও বাড়ায় দুই সিটি করপোরেশন। ঝুলন্ত তার সরিয়ে নিতে ৩১ ডিসেম্বর (২০২০) পর্যন্ত সময় পায় আইএসপি এবং ক্যাবল লাইন অপারেটররা। যদিও বিষয়টির শুরু আরও আগে থেকে। এভাবেই চলছে। সমাধান আর হয় না।

জানা গেছে ২০২০ সাল পর্যন্ত এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোম রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ লাইন তৈরি করেছে। এছাড়া মতিঝিল, কাওরানবাজার, নিকেতন, মহাখালী ডিওএইচএস, গুলশান ও বনানী এলাকায় ৬টি এফটিটিএইচ (ফাইবার টু দ্য হোম) তৈরি করেছে।

আরেকটি এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড ২০২০ সাল পর্যন্ত রাজধানীর ভিআইপি বা মেইন রোডে ১৬৫ কিলোমিটার ক্যাবল লাইন নির্মাণ করেছে। সাব-রোডে ক্যাবল লাইন তৈরি করেছে ২৫৩ কিলোমিটার এবং ১ হাজার ৯৬৫টি বাসাবাড়িতে কানেকশন (এলডিপি- লোকাল ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট) দিয়েছে বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটির সেবাদানের পরিধি আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

ঝুলন্ত তার অপসারণের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএসপিএবির সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, ঝুলন্ত তার (ওভার হেড ক্যাবল) অপসারণ নিয়ে ইঁদুর-বিড়াল লুকোচুরি চলছে। ফলে সমস্যা দূর হচ্ছে না।’ ঝুলন্ত তারের সমস্যা তাই দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমদাদুল হক বলেন, ‘দুই সিটি করপোরেশন ইচ্ছেমত তার কাটে, মেশিন তুলে নিয়ে যায়। পরে আবার তাদের কাছ থেকে মেশিন আনতে হয়। এতে করে ইন্টারনেট সেবাদানে বিঘ্ন ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘এই তার আমদানি করতে হয়। তারের দাম বেড়েছে। ডলারেরও দাম বেড়েছে। এর ফলে দেশের বাইরে ডলার চলে যাচ্ছে। সেই বিষয়টা কেউ মনে রাখছে না। দেশের স্বার্থেই সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে এনটিটিএনগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তারা যত তাড়াতাড়ি সব জায়গায় মাটির নিচে ক্যাবল লাইন তৈরি করতে পারবে আমরাও দ্রুত ঝুলন্ত তার নামিয়ে নিতে পারবো।’







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ