বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ম্যানসিটি না রিয়াল মাদ্রিদ: ফাইনালে যাবে কে?
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ মে ২০২৩, ০১:১৯ অপরাহ্ণ

এবারের মৌসুমের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ রাতে। ম্যানচেস্টারের ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জিতবে কে? রিয়াল মাদ্রিদ নাকি স্বাগতিক ম্যানসিটি? কে যাবে ফাইনালে? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীরা।

গত সপ্তাহে প্রথম লেগের ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। ওই ম্যাচে কেউ জেতেনি। ১-১ গোলে ড্র হয়েছিলো ম্যাচটি। কেভিন ডি ব্রুইনের গোলে ম্যানসিটি এগিয়ে গেলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে রিয়াল। দই দলের গোল ব্যবধানও এক। সুতরাং, আজ যেই জিতবে, যে ব্যবধানেই জিতুক- সেই ফাইনালে।

গতবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো ইংল্যান্ড এবং স্পেনের এই দুই সেরা ক্লাব। সেবার ফাইনালে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলো ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ফাইনালে উঠে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

গতবার প্রথম লেগে ৪-৩ গোলে এগিয়ে ছিলো ম্যানসিটি। ফিরতি লেগেও এগিয়ে গেছে ১-০ গোলে। নির্ধারিত সময়ের বাকি তখন আর এক মিনিট মাত্র। ম্যানসিটি তখন দুই লেগ মিলে এগিয়ে ২ গোলের ব্যবধানে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে একটা পা দিয়েই রেখেছিল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

কিন্তু প্রতিপক্ষ যে রিয়াল মাদ্রিদ! হারের আগে কখনো পরাজয় মেনে নেয় না। ৯০ মিনিটে এক গোল ফিরিয়ে দিয়ে আশা জাগান রদ্রিগো। এক মিনিট পর রদ্রিগোর আরেক গোলে সমতা ফেরে ২-২ এ। এরপর খানিক পরে করিম বেনজেমার পেনাল্টিতে বুক ভাঙে ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকদের। দুই লেগে সিটির চেয়ে ৬-৫ গোলে এগিয়ে গেলো রিয়াল।

আজ ইতিহাদে জিতলেই মধুর প্রতিশোধ নেবে ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন দেখা ম্যানসিটি। সম্ভাব্য চার ম্যাচের তিনটি জিতলেই ১৯৯৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে কীর্তিটা গড়বে তারা।

প্রিমিয়ার লিগে আর এক ম্যাচ জিতলে নিশ্চিত হবে শিরোপা। এফএ কাপ ফাইনালে ম্যানইউকে হারালে হবে ডাবলস। আর চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ ও ফাইনাল জিতলে কাঙ্ক্ষিত ট্রেবল।

ম্যানসিটির প্রেরণা হতে পারে নিজেদের মাঠের রেকর্ড। ২০১৮ সালের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ইত্তিহাদে হারেনি তারা। এই মৌসুমে অপরাজিত ২২ ম্যাচ। কেবল ২০২৩ সালে জিতেছে ১৪ ম্যাচ। তাই শুধু নিজেদের খেলাটাই খেলতে চান পেপ গার্দিওলা, ‘এমন উপলক্ষ্যের সামনে আসতে পারাটা সৌভাগ্যের। সবকিছুই এখন আমাদের হাতে। বিশেষ কিছু করার দরকার নেই, শুধু নিজেদের খেলাটা খেললেই হবে।’

ম্যানসিটির এই দাপট থামাতে পারে রিয়ালই। এডার মিলিতাও আর দানি কারভাহল ফিরে আসায় আজ রক্ষণের শক্তি আরো বেড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দলের। রক্ষণ দুর্ভেদ্য করতে রদ্রিগোকে হয়তো বেঞ্চে বসিয়ে রাখবেন তিনি। পাশাপাশি রিয়ালের প্রেরণা হতে পারে ম্যানচেস্টার শহরটাও।

চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউটে নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ৯ বার জিততে না পারা রিয়াল সাতবারই খেলতে পারেনি পরের রাউন্ডে। ১৯৯৯-২০০০ ও ২০১২-১৩ মৌসুমে যে দুবার তারা পরের রাউন্ডে যায়, সেই দুবারই ম্যানচেস্টার শহরের ঐতিহ্যবাহী মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানইউকে হারিয়ে। ১৯৯৯-২০০০-এর কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রাউল গঞ্জালেসের জোড়া গোলে রিয়াল জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে। ২০১২-১৩ মৌসুমের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে রিয়াল জেতে ২-১ গোলে।

রিয়ালের মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ সেই ইতিহাসকেই খানিকটা স্মরণ করিয়ে দিলেন। গত ৯ বছরে ৫বার চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে একবার হলেও একেবারে খাদের কিনারা থেকে উঠে এসেছে তারা। এবার মদ্রিচ মনে করছেন, ইতিহাসের এই অনুপ্রেরণাই তারা কাজে লাগাবে ম্যানসিটিকে হারিয়ে ফাইনাল খেলার জন্য।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ