মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোবাইলের ফিচার ব্যবহারে গোপনীয়তা সবচেয়ে বড় বাধা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০২৩, ১২:১২ অপরাহ্ণ

গ্রামীণফোনের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ২০২২ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৮টি দেশে ‘ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড’ শীর্ষক এক জরিপ পরিচালনা করে টেলিনর এশিয়া।

জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয় উঠে আসে। একইভাবে, সমীক্ষার দ্বিতীয় অংশ উন্মোচন করে টেলিনর এশিয়া, যেখানে মোবাইল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে কাজের ধরনে কী রূপান্তর আসছে তা তুলে ধরা হয়েছে। সমীক্ষাটি সোমবার (৮ মে) প্রকাশ করা হয়।

ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড’র দ্বিতীয় অংশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে মহামারির পরবর্তীতে কীভাবে কাজের নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠছে এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় মানুষ কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে তা প্রকাশ করা হয়েছে। সমীক্ষার এই অংশে উঠে এসেছে, মোবাইল কানেক্টিভিটি ক্যারিয়ারের পথ সুগম করেছে; তবে, নিয়োগকর্তাদেরও কর্মস্থলের নীতি ও অনুশীলন উন্নত করার দিকে গুরুত্বারোপ করতে হবে।

এতে দেখা যায়, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, ক্যারিয়ার দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে এবং নতুন ব্যবসার সুযোগ কাজে লাগাতে এশিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা পেশাগত জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে, হাইব্রিড কাজের ধরনের নানা দিক এবং এটা কীভাবে কর্মী-নিয়োগকারীদের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে, তা এ সমীক্ষায় উঠে আসে।

সমীক্ষার উদ্দেশ্য ও মূল বিষয় সম্পর্কে টেলিনর এশিয়ার হেড ইয়র্গেন রোস্ত্রাপ বলেন, সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা নিয়ে শহর ও গ্রামের মানুষ, বড় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোগ, বিভিন্ন শিল্পখাত এমনকি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অধীস্তন কর্মীদের পার্থক্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা ও সমক্ষতা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন। অনেক সময় বিশ্বাসের ঘাটতির কারণে কাজের ক্ষেত্রে নিজেদের সম্ভাবনার বিকাশে অনেকেই মোবাইলের পূর্ণ ব্যবহার করছেন না।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, মহামারির কারণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত হয়েছে। ডিজিটাল বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটির ক্ষমতায়ন সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রায় ৮ হাজার মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার ৫৭ শতাংশ বাংলাদেশি জানান, মোবাইল ডিভাইস ও প্রযুক্তির কারণে তাদের উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে; যেখানে ২৬ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি।

ক্যারিয়ার ও দক্ষতার উন্নয়নে মোবাইল ডিভাইস ও প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব আছে কিনা এ প্রশ্নে এমন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছে বলে জানান ৬৯ শতাংশ বাংলাদেশি। লিঙ্গভিত্তিক ফলাফল থেকে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ নারী ও ৬৭ শতাংশ পুরুষ উত্তরদাতা জানিয়েছেন ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের উন্নতি হয়েছে। ৫৭ শতাংশ মনে করেন, মোবাইল ডিভাইস থেকে আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে। ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন এর মাধ্যমে নতুন চাকরি ও ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজের উদ্দেশ্যে আগামী ৬-১২ মাসের মধ্যে মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়াবেন বলে বিশ্বাস করেন ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা।

এছাড়া, মোবাইল প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহারে অথবা কাজের ক্ষেত্রে এর ফিচারগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় সবচেয়ে বড় বাধা বলে জানিয়েছেন ৬১ শতাংশ বাংলাদেশি। আর প্রযুক্তির ওপর ভরসা না পাওয়া এবং এ সংক্রান্ত দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেন না যথাক্রমে ৪৯ ও ৬০ শতাংশ মানুষ।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ