শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪ ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ চালিত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক নিবন্ধন দিবে সরকার
প্রকাশ: সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০২৩, ০১:০৬ অপরাহ্ণ

পরিবেশ দূষণ রোধে তেল ও গ্যাসের পরিবর্তে ইলেকট্রিক কার হিসেবে পরিচিত বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনকে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) দিতে নীতিমালা করেছে সরকার। এ নীতিমালা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশার জন্য প্রযোজ্য হবে না। বিদ্যুৎ চালিত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন নিবন্ধন পাবে।

গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপনে ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’ কার্যকর করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ। এতে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কমাতে বাংলাদেশের মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক গাড়িতের রূপান্তর করা প্রয়োজন। নীতিমালার ৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে, এ লক্ষ্য পূরণে ইলেকট্রিক গাড়ির আমদানিকারক এবং উৎপাদনকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করবে অর্থ বিভাগ এবং রাজস্ব বোর্ড।

আইনে সুযোগ না থাকায় ইলেকট্রিক গাড়ি এত দিন নিবন্ধন পায়নি। ২০২১ সালের নভেম্বরে নীতিমালার খসড়া করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে এর আগেই পরীক্ষামূলকভাবে একটি ইলেকট্রিক কারকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। খসড়ায় বলা হয়েছিল, পুরোনো ইলেকট্রিক কার আমদানি করা যাবে না। তবে নীতিমালায় ‘লাইফটাইম’ থাকা পুরোনো গাড়ি আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। খসড়ায় বদল এনে গাড়িতে লিথিয়াম আয়ন বা এর উচ্চতর দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাটারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নীতিমালার ২(৬) ধারায় ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলেছে। এখন এসব মোটরসাইকেলের জন্যও সড়ক পরিবহন আইন প্রযোজ্য হবে। বিনা রেজিস্ট্রেশনে চালালে ছয় মাস জেল এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নীতিমালার ৪ ধারায় বলা হয়েছে, অন্যান্য গাড়ির মতোই ইলেকট্রিক কারের চেসিস, ইঞ্জিন নম্বরের পরিবর্তে মোটর নম্বর থাকতে হবে। ব্রেকিং, স্টিয়ারিং, লাইটিং, সাসপেনশন বিদ্যমান ইঞ্জিনচালিত গাড়ির সমতুল্য হতে হবে।

বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি চালানোতে বাধা পথিমধ্যে ব্যাটারি চার্জ করা। উন্নত দেশে চার্জিং স্টেশন রয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের চার্জিং গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। এতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারে বাসাবাড়িতে চার্জিং স্টেশন করা হবে। তিনের অধিক গাড়ি ব্যবহারের জন্য আবাসন সমিতি, শপিংমল, হোটেল, অফিস, রেস্টুরেন্ট, পেট্রোল পাম্পে স্থাপিত চার্জিং অবকাঠামো পাবলিক চার্জিং স্টেশন হিসেবে গণ্য হবে। পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মতো চার্জিং স্টেশন নির্মাণ করা যাবে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে। দুই এবং তিন চাকার গাড়ির চার্জার কানেক্টর হবে টাইপ-১ এসি। সর্বনিম্ন রেটেড পাওয়ার হবে ১ থেকে ১ দশমিক ৯ কিলোওয়াট। বড় গাড়ির জন্য চার্জিং স্টেশনে সর্বনিম্ন রেটেড পাওয়ার হবে ১১ থেকে ৫০ কিলোমিটার। চার্জিং ফি বিদ্যুতের দাম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

নীতিমালার ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া হবে ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের মতোই। সিলিন্ডারের পরিবর্তে ব্যাটারি সংখ্যা, সিসির পরিবর্তে মোটরের কিলোওয়াট এবং ইঞ্জিনের অশ্বক্ষমতার পরিবর্তে ব্যাটারির কিলোওয়াট প্রতি অ্যাম্পিয়ার হিসাব করা হবে। ফিটনেস, ট্যাপটোকেনও হবে ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মতোই। রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার আগে বিক্রেতা ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল এবং তিন চাকার গাড়ি ক্রেতাকে হস্তান্তর করতে পারবেন না।

৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইকোনমিক লাইফ’ অনুযায়ী ইলেকট্রিক গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হবে। বাণিজ্যিক ব্যবহারে সরকার ‘লাইফটাইম’ নির্ধারণ করবে। খসড়ায় ‘লাইফটাইম’ বৃদ্ধির সুযোগ ছিল। তবে নীতিমালার ৬(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইকোনমিক লাইফ’ শেষে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে এবং গাড়ি ধ্বংস করতে হবে।

খসড়ায় তিন চাকার ইলেকট্রিক গাড়ির আয়ুষ্কাল ১০ বছর, মোটরসাইকেলের ১২ বছর এবং হালকা, মধ্যম ও ভারী যানবাহনের ২০ বছর ধরা হয়েছিল। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেছেন, একটি গাড়ি যত বছরের জন্য বানানো হয়েছে বা এর ‘ইকোনমিক লাইফ’ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে।

৭ ধারায় বলা হয়েছে, ইঞ্জিনের সিসি পরিবর্তে মোটরের ক্ষমতা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি হবে। ইলেকট্রিক গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। ১০০ সিসির বেশি নয় এমন মোটরসাইকেলের সাকল্যে রেজিস্ট্রেশন খরচ ১২ হাজার ২৭৯ টাকা। ৫ কিলোওয়াটের কম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলেও তাই হবে। ৫ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন খরচ হবে ১০১ থেকে ১৬৫ সিসির মোটরসাইকেলের সমান।

৭০ কিলোওয়াটের কম ক্ষমতার প্রাইভেটকারের রেজিস্ট্রেশন ফি হবে ১ হাজার ৪০০ সিসির কম ক্ষমতার ইঞ্জিনের গাড়ির সমান, ২৭ হাজার টাকা। ১০০ কিলোওয়াটের কম ক্ষমতার ইলেকট্রিক গাড়ির ফি লাগবে ২ হাজার সিসির কম ক্ষমতার ইঞ্জিনের গাড়ির সমান, ৬০ হাজার টাকা। ১০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার কারের রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাইক্রোবাস, বাস এবং পণ্যবাহী ইলেকট্রিক গাড়ির ফি হবে ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মতোই ওজন অনুযায়ী।

নীতিমালায় অনুযায়ী, যাত্রীবাহী ইলেকট্রিক গাড়ির ভাড়া সরকার নির্ধারণ হবে। ৩০ কিলোমিটারের কম গতির বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি মহাসড়কে চলতে পারবে না।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ