মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বন্ধুত্ব যেন অটুট থাকে জান্নাত পর্যন্ত
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ আগস্ট ২০২৩, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

আত্মার কাছাকাছি যে বাস করে, তার নামই বন্ধু। বন্ধুত্ব হলো একরাশ ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাস। তাই বলি, বন্ধু মানে শুধু মজা করা বা আড্ডা দেওয়া নয়। বন্ধু মানে একে অপরের খুশিতে খুশি হওয়া। একে অপরের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো। আবার একে অপরের স্বপ্ন পূরণের রাস্তায় সঙ্গী হওয়া।

আমাদের জীবনে বন্ধুদের গুরুত্ব ঠিক কতটা, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে, মুমিনরা হলো একে অপরের বন্ধু। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভালো কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে। আর তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। এদের আল্লাহ শিগগির দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তাওবা-৭১)

বন্ধুত্ব হতে হবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। ‘যখন দুই ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, তখন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয় সেই ব্যক্তি, যে অপরকে অধিক গাঢ়ভাবে ভালোবাসে।’ (আল হাদিস) তাই এমন কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা, যার জন্য পরকালে আফসোস করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কিয়ামতের দিন আফসোসের সুরে বলবে হায়! আমরা যদি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম।’ (সুরা ফুরকান-২৮) দেখা যায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে; সে বন্ধুত্ব সবচেয়ে বেশি দৃঢ় হয়।

অপরদিকে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য উপকার লাভের আশায় সামাজিক শ্রেণি ও জাতিগত পরিচিতি লাভের ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, তা বেশিদিন টিকে থাকে না। এসব ক্ষেত্রে কারো স্বার্থে কোনো রকম আঘাত লাগলেই বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে উপযুক্ত লোকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা উচিত। সারাজীবন যেন বন্ধুত্ব অটুট থাকে, সে চেষ্টা করা জরুরি।

যে বন্ধুত্ব আমাদের জীবন আমূল পরিবর্তন করে দেয়, যে বন্ধুত্ব ছাড়া আমাদের চলা অসম্ভব; সেই বন্ধুত্ব লালনের জন্য আমাদের কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা মানতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুক। আমিন।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ