মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পশুর হাটে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩, ১২:০৮ অপরাহ্ণ

আগামী ২৯ জুন পালিত হবে ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এসব হাটে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা হবে লাখ লাখ পশু। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজধানীতে অস্থায়ী ১৭টি পশুর হাট বসবে। এ ছাড়া গাবতলী ও সারুলিয়ায় রয়েছে দুটি স্থায়ী পশুর হাট। হাটগুলোর ইজারাদারেরা এরইমধ্যে বেশিরভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য আয়োজন সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজারা হওয়া রাজধানীর হাটের জায়গাগুলোতে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। হাটে নির্ধারিত জায়গাগুলো বিভিন্ন খামারের লোকজন এবং ব্যবসায়ীদের গুছিয়ে নিতে দেখা গেছে। হাটের ভেতরে গরু বাঁধার জন্য বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে শেড তৈরি করা হচ্ছে। গরু আসা শুরু হলে ব্যাপারীরা খুঁটিকেন্দ্রিক ত্রিপল বা পলিথিন বসিয়ে নিজ নিজ পশু বেঁধে রাখবেন।

অন্যদিকে, পশুর হাট সংলগ্ন মেইন রোডে বড় বড় গেট করা হয়েছে। গেটগুলোতে চলছে আলোকসজ্জার কাজ। এসব পশুর হাট সাজাতে সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি ইজারাদার বা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ হাট গাবতলীতে দেখা গেছে হাট প্রস্তুতির কাজে বিভিন্ন ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের ২০০ জন কর্মী কাজ করছেন। স্থায়ী পশুর হাট হলেও ঈদকে কেন্দ্র করে এখনও এখানে পশুবাহী বড় গাড়ি আসেনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

হাট প্রস্তুতির কাজ তদারকি করা হেমায়েতপুরের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, ‘আমি চারটি প্যান্ডেলের কাজ করছি। আমার মতো আরও বেশ কয়েকজন এই কাজে আছে।’ এ বছর দেরিতে হাট প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও ইট-বালুর ব্যবসায়ীরা তাদের জিনিসপত্র সরায় নাই। আর বৃষ্টি-বাদলা ছিল। তবে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আশা করি ২১ তারিখের মধ্যেই সব প্রস্তুত হয়ে যাবে।’

ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরুর ট্রাক আসবে জানিয়ে গাবতলী হাটের গরু ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের হাট জমে সাত দিন। এখনও কোনও গাড়ি (পশুবাহী) আসেনি। তবে আজকে রাতে কিছু গাড়ি আসবে।

রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির খেলার মাঠে দেখা গেছে সারি সারি বাঁশ পুঁতে রাখা হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ব্যাপারী ও হাটের কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা করেছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে পশুর খাবার রাখার স্থানও। একই অবস্থা দেখা গেছে হাজারীবাগ লেদার ইনস্টিটিউট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় বরাদ্দ দেওয়া অস্থায়ী হাটেও।

রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি মাঠের ইজারাদার সোলায়মান সেলিম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ জুলাই থেকে পশু বিক্রি শুরু হবে। তবে ঢাকার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে আমরা অন্তত দুই-তিন দিন আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করবো।’

এদিকে হাটের দৃশ্যমান প্রস্তুতির বাইরেও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন বলেন, ডিএনসিসিতে একটা স্থায়ী গরুর হাট ছাড়া আরও আটটি অস্থায়ী হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে হাটগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে। এরমধ্যে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আটটি হাটে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, যারা হাটগুলো ইজারা নিয়েছেন, আগত ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধাদি নিশ্চিত করতে তাদের আমরা সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছি।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন বলেন, হাটগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও সড়কে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ