শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চ সেতুতে বদলে যাবে ময়মনসিংহের জনপদ
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩, ১২:২৩ অপরাহ্ণ

পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির হারবারের আদলে দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চ সেতু। এই সেতুর বৈশিষ্ট্য হলো নদের দু পাশে পিলার থাকলেও মাঝে কোনো পিলার বসানো হয় না। ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়ে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে এই সেতু। এর কাজ শেষ হলে ময়মনসিংহে যানজট নিরসন ও কয়েকটি জেলার যোগাযোগ সহজতর হবে। বদলে যাবে এই জনপদ, সুফল পাবেন ব্যবসায়ীরা। খুব শিগগির এই সেতুর কাজ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর পাটগুদাম এলাকায় একমাত্র সড়ক সেতু দিয়ে যাতায়াত করে জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মানুষ। মানুষ ও গাড়ির চাপ বাড়ায় যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে বিভাগীয় শহরটি। ময়মনসিংহ নগরী সংলগ্ন পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর পাটগুদামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু মোড়ের যানজট নিরসনের জন্য নির্মাণ করা হবে সেতুটি। ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘ময়মনসিংহে কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ’ নামে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি।

সেতুর নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সওজ জানিয়েছে, স্টিল আর্চ সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। সেতুর নির্মাণকাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ ৬০ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ ১ হাজার ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি লাইন অপসারণ ও পুনঃস্থাপনে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস মোড় থেকে শুরু হবে মূল সেতুর সংযোগ সড়ক, যা সেতুর অন্য প্রান্ত চায়না মোড় পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংযোগ সড়ক মূল সেতুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগেই পড়বে ২৫০ মিটার রেলওয়ে ওভারপাস। এরপরই সংযোগ সড়ক মিলবে ৩২০ মিটার দীর্ঘ মূল স্টিল সেতুর সঙ্গে। সেতুতে ২০২ মিটার র‍্যাম্পসহ ভারী যান চলাচলের জন্য চার লেন এবং মোটরসাইকেল ও হালকা যান চলাচলের জন্য দুটি লেন থাকবে।

এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ কাজ প্রায় শেষের পথে। তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটির কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগের কাজ শেষ পর্যায়ে। ঠিকাদার নিয়োগ শেষে চলতি বছরের আগস্টের পর থেকেই সেতুটির দৃশ্যমান কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল বরকত মো. খুরশিদ আলম।

তিনি জানান, দেশে ছোট একটি স্টিলের আর্চ সেতু আছে। সেটি নড়াইলের কালনায়। তবে ব্রহ্মপুত্রে ব্যালেন্স স্টিল আর্চ সেতুটিই হবে দীর্ঘতম। মূল সেতুটি হবে ১ হাজার ১০০ মিটার। এর মধ্যে স্টিল আর্চ পদ্ধতির হবে ৩২০ মিটার। বাকিটুকু হবে পিসিআই গার্ডার পদ্ধতিতে।

তিনি আরও জানান, সেতুটির পাশে হবে একটি ওয়াচ টাওয়ার। থাকবে দৃষ্টিনন্দন পার্ক। সড়কে চলা চালক ও দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হবে নানা ব্যবস্থা। ২০২৫ সালের জুনে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ময়মনসিংহ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে পিলারবিহীন দৃষ্টিনন্দন সেতুটি নির্মাণ হলে এ জনপদের চিত্র পাল্টে যাবে।

দ্য ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি শংকর সাহা জানান, ব্রহ্মপুত্রে মাত্র একটি সেতু। যানজটে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় জ্বালানি খরচ বাড়ে, পরিবহন করা পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন সেতু হলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। সুফল পাবে ব্যবসায়ীরা।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে নতুন করে কেওয়াটখালি সেতু নির্মিত হলে ময়মনসিংহ জনপদের চিত্রপট একেবারেই বদলে যাবে। এই সেতুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনগণ এর ব্যাপক সুফল পাবে।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ