বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দারুণ জয়ে সাফে টিকে থাকল বাংলাদেশ
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জুন ২০২৩, ০৬:২৪ অপরাহ্ণ

পরিসংখ্যানের চোখ রাঙানি আর শঙ্কার দোলুনি কী দারুণভাবেই না উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে উঠল রাকিব হোসেনের গোলে। এরপর কাজী তারিক রায়হান আগের ম্যাচের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন দলকে এগিয়ে নিয়ে। ম্যাচ জুড়ে সাহসী ফুটবলের পসরা মেলে মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে খেলার আশা টিকিয়েও রাখল দারুণভাবে।

বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে রোববার বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়া দলকে রাকিব সমতায় ফেরানোর পর এগিয়ে নেন তারিক। শেষ দিকে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন শেখ মোরসালিন।

পরিসংখ্যানে মালদ্বীপের বিপক্ষে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ: মালদ্বীপকে হারিয়েই ২০০৩ সালে সাফের প্রথম এবং সবশেষ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর এই প্রতিযোগিতায় তাদের আর হারাতে পারছিল না বাংলাদেশ। মাঝে তিনবারের দেখায় সগুলোতে হারে; সবশেষ ২০২১ সালে স্কোরলাইন ছিল ২-০। ২০ বছর পর সাফের আঙিনায় সেই খরা কাটল বাংলাদেশের।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দলের সবশেষ দেখা হয়েছিল গত বছর মার্চে, সেবারও প্রীতি ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সে ক্ষতেও প্রলেপ দিয়ে দ্বীপ দেশটির বিপক্ষে জয়ে ফিরল দল।

সব মিলিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসখ্যানে এগিয়েও গেল বাংলাদেশ। আগের ১৫ ম্যাচ দুই দলের জয় ছিল ৬টি করে, বাকি তিনটি ড্র। মালদ্বীপের বিপক্ষে এর আগে সবশেষ বাংলাদেশ জিতেছিল ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার মহিন্দা রাজাপাকসে টুর্নামেন্টে; ২-১ গোলে।

দাপুটে শুরুর পর আচমকা গোল হজম: দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ। জামালের কর্নার অনেকটা লাফিয়ে ক্লিয়ার করেন মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডার। প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার ইঙ্গিত মিলে যায় শুরুতেই। একটু পর কর্নার আদায় করে নেয় মালদ্বীপও। হামজার কর্নার হেডে ক্লিয়ার করেন তপু।

সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন মোহাম্মদ সোহেল রানা। থ্রু পাসও বাড়ান। তবে বলে গতি থাকায় রাকিব হোসেন ছুটে গিয়েও নাগাল পাননি। ভালো সুযোগ নষ্টের হতাশা সঙ্গী হয় দলের।

গোছালো আক্রমণে পরের মিনিটেই হাফ-চান্স তৈরি করে বাংলাদেশ। জামালের লং পাস রাকিব ধরার আগেই গ্লাভসে নেন গোলরক্ষক। একাদশ মিনিটে জামালের কর্নারে সোহেলের দুর্বল হেড যায় গোলরক্ষক বরাবর।

খেলার ধারার বিপরীতে অষ্টাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। হাসান হাইসামের পাস এক সতীর্থ টোকা দেওয়ার পর প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন হামজা। ভূটান ম্যাচেও গোল পাওয়া এই ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে পড়েও আটকাতে পারেননি আনিসুর রহমান জিকো।

তপুর হেড ফিরল গোললাইন থেকে: হঠাৎ গোল হজম করে যেন স্নায়ুর চাপ পেয়ে বসে বাংলাদেশ দলকে। ১৯তম মিনিটে ছুটে এসে বল ক্লিয়ার করতে হেড করেছিলেন জিকো। কিন্তু মাথা আর বলের সংযোগ করতে পারেননি। ইসা ফয়সাল দ্রুত ক্লিয়ার করেন।

৩৩তম মিনিটে সোহেল রানার কর্নারের পর তপুর হেড গোললাইন থেকে হুসেইন নাহিয়ান ফেরানোর পর মালদ্বীপেরই নাইজ হাসানের গায়ে লেগে বল ফের জালের দিকে ছুটছিল। গোলরক্ষক সেভ করেন।

রাকিবের গোলে সমতা: দারুণ গোছাল আক্রমণে ৪২তম মিনিটে গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। সোহেল রানার ক্রসে তপুর হেড পাস থেকে হেডেই জাল খুঁজে নেন রাকিব।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেন রাকিব। ইসা ফয়সালের দারুণ পাস ধরে দুরূহ কোণ থেকে তার নেওয়া শট গোলরক্ষক অনেকটা লাফিয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে বের করে দেন। যোগ করা সময়ে রাকিবের আরেকটি হেড অল্পের জন্য উপরের জাল কাঁপায়।

খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়লেন রাকিব: দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নারে বিশ্বনাথের হেড যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। ৫৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। ফাহিম, সোহেল ও জামাল তিন জন দুই ডিফেন্ডারকে পেয়েছিলেন, কিন্তু নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার সংকট ফুটে ওঠে প্রবলভাবে। ফাহিম শেষ মুহূর্তে বাঁ দিকে সোহেলকে বল দিলেও শট নিতে পারেনি কেউ।

৬২তম মিনিটে তিনটি পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। অধিনায়ক জামাল, সোহেল রানা ও গোলদাতা রাকিবকে তুলে নিয়ে শেখ মোরসালিন, মজিবুর রহমান জনি ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নামান কোচ। রাকিব মাঠ ছাড়েন খোঁড়াতে খোঁড়াতে।

তারিকের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ: লেবানন ম্যাচের ভুলের ক্ষতে প্রলেপ দিলেন কাজী তারিক রায়হান। ৬৫তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেন মোরসালিন, কিন্তু এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়। এই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ইব্রাহিমের কর্নারে জটলার ভেতর থেকে তারিকের প্রথম শট একজন আটকান। এরপর এই ডিফেন্ডারের ফিরতি শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার হয়, তৃতীয় প্রচেষ্টায় শটে জাল খুঁজে নেন তারিক।

জাতীয় দলের হয়ে এ নিয়ে দ্বিতীয় গোল পেলেন তিনি। গত মার্চে সিশেলসকে ১-০ ব্যবধানে হারানো প্রীতি ম্যাচে প্রথম গোল পেয়েছিলেন তারিক।

চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন তারিক: ৭০তম মিনিটে মোরসালিনের দূরপাল্লার জোরাল শট গোলরক্ষক হুসাইন শরীফ হক ফিস্ট করে আটকান। ৮২তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তারিক; বদলি নামেন মেহেদী হাসান মিঠু। ৮৯তম মিনিটে ফাহিমকে তুলে সুমন রেজাকে নামান কাবরেরা।

মোরসালিনের দারুণ গোল এবং জয়ের হাসি: পরের মিনিটেই মোরসালিনের গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় দলের। এই গোলের নেপথ্যের নায়ক ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা বিশ্বনাথ। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে তিনি বাড়ান মোরসালিনকে। ঠাণ্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই মিডফিল্ডার।

একটু পর হামজার শট ফিরিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখেন জিকো। চলতি সাফে প্রথম জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে লেবাননের বিপক্ষে ড্রয়ের আশা জাগিয়েও ২-০ গোলে হেরেছিল তারা।

ভূটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করা মালদ্বীপ পেল প্রথম হারের তেতো স্বাদ। গ্রুপে এ মুহূর্তে ৩ করে পয়েন্ট তিন দলের-লেবানন, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের। লেবানন অবশ্য ম্যাচ খেলেছে একটি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ