সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুন্নু সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, আপনি কি পারেন না, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে। যা যা করা দরকার সবাইকে নিয়ে সেই উদ্যোগ নিন।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জাপা মহাসচিব।

জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা।

এসময় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ও শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জি এম কাদেরের বক্তব্য একই হতে পারবে না কেন? জাতীয় পার্টি কি আপনাদের (সরকারি দলের) খেদমতগার?

চুন্নু বলেন, জি এম কাদের সরকারের কাছ থেকে কী কী সুবিধা নিয়েছে যে, সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন না। জি এম কাদের যদি কোনো বিশেষ সুবিধা নিয়ে থাকেন তার তালিকা প্রকাশ করুন।

সংসদে জাপা মহাসচিব আরও বলেন, তথ্য ছাড়া কোনো কথা বলেন না জি এম কাদের। তিনি যদি বলে থাকেন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে, তাহলে আপনারা তথ্য দিয়ে প্রমাণ করুন যে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয় নাই। গায়ের জোরে কথা বলেন কেন?

দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে জাপা মহাসচিব বলেন, আপনার বাড়ির কাছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে পাঁচ লাখ টন কয়লা চুরি হয়ে গেছে। ওইটার খবর রাখতে পারেন না কেন? ৫০০ কোটি টাকা দাম এটার।

সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিএম কাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কী কী সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন? কথা বলার সময় একটু খেয়াল করে বলবেন।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করছে। দেশের মানুষ গ্রহণ করছে। সরকারপ্রধান শুনছেন। আপনারা এটা সহ্য করতে পারছেন না। সংসদে অবান্তর কথা বলছেন। জিএম কাদের এমপি হিসেবে রাজউক থেকে একটা প্লটও নেননি। আপনাদের প্রমাণ করতে হবে কী সুযোগ-সুবিধা আলাদাভাবে নিয়েছেন তিনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন, এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে জাপা মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্বাচন করবেন না। বিএনপিও করবে না। সেদিন নির্বাচন না হলে অগণতান্ত্রিক সরকার আসার সম্ভাবনা তৈরি হতো।

তিনি বলেন, সেদিন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথা না শুনে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার কতিপয় এমপি নির্বাচন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাক্ষী। তখন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা বলেছিলেন, ‘এই চুন্নু মাথা খারাপ হয়ে গেছে? দেশের অবস্থা দেখো না। নির্বাচন সম্ভব হবে কি? জান থাকবে? প্রাণ থাকবে? নেত্রীর মাথা নষ্ট, তোমাদেরও মাথা নষ্ট। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, নাম বলতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীকে বললাম তারা কি বলে? তখন তিনি বললেন নির্বাচন হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। তোমরা নির্বাচন করো। আমরা নির্বাচন করলাম। আমাদের তিনজনকে মন্ত্রী দেওয়া হলো।

মুজিবুল হক চুন্নু আরও বলেন, ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে জাপা। আমরা কি তিনবার, চারবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসার জন্য সাহায্য করি নাই। তাহলে এত কথা বলেন কেন? কি সুযোগ-সুবিধা আমরা নিলাম?

সরকারি দলের সদস্যদের সমালোচনা করে জাপার এই সংসদ সদস্য বলেন, এই সংসদে বারবার বিএনপির নাম বলে তাদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বিরোধীদল জাতীয় পার্টি। আপনারা আমাদের সমালোচনা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে বলেন সমস্যা নেই। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে বলবো, কারণ আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলি। কিন্তু আপনারা চান আমরা আপনাদের খয়েরখাঁ হয়ে থাকবো। সাড়ে ৩শ এমপির মধ্যে ৩শর ওপরে আপনারা। আপনাদের ভালো কাজের কথা আপনারা বলেন। মানা করছে কে? কিন্তু আপনারা কেন আশা করেন আমরা আপনাদের পক্ষে কথা বলবো? আমরা তো বিরোধীদল। আমরা সরকারের ত্রুটির কথা বলবো। আমরা সরকারের দুর্নীতি ও প্রশাসনের অনিয়মের কথা বলবো।

প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে মুজিবুল হক বলেন, কিছু আমলার সহায়তা নিয়ে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন তাতে বাস্তবতার প্রতিফলন নেই। অর্থমন্ত্রী দুই ঘণ্টার একটি রেকর্ড বাজিয়ে শুনিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা দিতে না পারলে তার বিকল্প মন্ত্রী বক্তৃতা দিতে পারতেন। সামনের দিনে অর্থমন্ত্রীরা বাজেট বক্তৃতা দিতে উৎসাহবোধ করবেন না।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ