শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪ ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গাড়ির হর্নের শব্দে বধির হওয়ার পথে সাধারণ মানুষ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩, ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ

নুসাইবা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে ঢাকায় বাসাভাড়া নিয়েছেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে করছেন দিনরাত পরিশ্রম। অথচ গাড়ির শব্দে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না একদমই। গ্রামের সহজ-সরল মেয়ে নুসাইবা। গাড়ির এতো বিকট শব্দ আগে শোনেননি। শান্ত, নীরব প্রকৃতির গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় পড়তে আসার স্বপ্ন যেন তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু নুসাইবা নন, গাড়ির শব্দে বিরক্ত রাজধানীবাসীও। অত্যধিক গাড়ির হর্নের শব্দে বধির হওয়ার পথে সাধারণ মানুষ। বাদ যাচ্ছে না ছোট্ট শিশুরাও। রাস্তায় চলতে ফিরতে অযথা হর্ন বাজায় অনেকে। কেউ তো আবার হর্ন চেপে ধরে রাখে অনেকক্ষণ। হর্ন বাজানো যেন ছেলেখেলা!

ছোট্ট শিশুরা প্রতিদিন সকাল হলেই স্কুলে ছুটছে। এদিকে স্কুলের সামনে দিয়ে চলা যানবাহন জ্যামে বসে হাইড্রোলিক হর্ন বাজাতে থাকে। এতে যেমন পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে তেমনি শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে শিশুরা। হর্ন ধীরে বাজানোর কথা বললেই তেরে আসছে কেউ কেউ।

হর্ন বাজানো বন্ধ হচ্ছে না হাসপাতালের সামনের রাস্তায়ও! রিকশার টিংটিং শব্দ কিংবা গাড়ির শব্দ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বাজিয়ে চলেছে অনেকে। অসুস্থ রোগীর কথা ভাবছে না তারা। তাদের শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া।

আমার মতে শব্দ দূষণের সবচেয়ে বেশি স্বীকার ট্রাফিক পুলিশ। দিন-রাত রাস্তার যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা নিরলস পরিশ্রম করছেন। যানজটের সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত গাড়ির শব্দ সহ্য করা চারটি খানি কথা নয়। অ্যাম্বুলেন্সের হর্ন, প্রাইভেট গাড়ির হর্ন, বাসের হর্ন, বেপরোয়া মোটরসাইকেলের হর্ন যে কারও শ্রবণশক্তি নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

উড়োজাহাজ কিংবা ফাইটার প্লেনের শব্দে ঘুম থেকে আঁতকে উঠছে দুধের শিশুরা। বেপরোয়া হর্নের শব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমুদ্রের প্রাণীরাও। সমুদ্রের জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দে বিরূপ আচরণ করছে বিশালাকৃতির তিমি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী।

অতিরিক্ত শব্দের ভেতর থাকলে হাইপার টেনশন, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, স্মরণশক্তি কমা, স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যার মতো কঠিন রোগে ভুগতে হতে পারে। এছাড়া ১২০ ডেসিবল শব্দ আপনার কান নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। তাই শব্দদূষণের ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শব্দদূষণ রোধে সবার আগে জরুরি অত্যাধুনিক হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা। এছাড়া স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালকে নীরব এলাকা ঘোষণার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।

এদিকে রাতে ঘুমানোর সময় উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বা মাইক বাজানোকে না বলতে হবে। নির্মাণকাজে যতটা কম শব্দ করা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা, ব্যক্তি সচেতনতা ও সরকারের শক্ত পদক্ষেপ পারে শব্দদূষণ রোধ করতে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ