মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুড়িয়ে পাওয়া  টাকা থানায় দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ২ ভাই
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুড়িয়ে পাওয়া ৫০ হাজার টাকা কুড়িয়ে পেয়ে থানায় জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই ভাই। টাকা পাওয়ার পরপরই তারা জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানান। পরে মহিপুর থানায় গিয়ে তারা টাকা জমা দেন। প্রকৃত মালিককে খুঁজে তার হাতে টাকাগুলো পৌঁছে দিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন। দুই ভাইয়ের এমন সততায় মুগ্ধ এলাকাবাসী। তারা দুই ভাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার আলীপুর শেখ রাসেল সেতুর সিঁড়িতে তারা টাকাগুলো পান। টাকা পাওয়া দুই ভাই হলেন- দীপ মজুমদার ও জয় মজুমদার। তারা কলাপাড়া পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডের খাসপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা পিযুস কান্তি মজুমদারের ছেলে।

দীপ মজুমদার ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর জয় মজুমদার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

দীপ ও জয় জানান, সোমবার বিকেলে তারা পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় বেড়াতে যান। বাড়ি ফেরার জন্য কোনো যানবাহন পাচ্ছিলেন না। পরে অটোরিকশায় চড়েন। আলীপুর বন্দরের শেখ রাসেল সেতুর পাশের সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে একটি টাকার বান্ডিল পড়ে থাকতে দেখেন। টাকাটা তুলে হাতে নিতেই স্থানীয় এক মোটরসাইকেলচালক টাকাটা নেওয়ার চেষ্টা চালান। দুই ভাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে টাকাটা তাদের কাছে রাখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করে ঘটনাটি পুলিশকে জানান।

জয় মজুমদার টাকাটা পেয়ে আমরা কিচ্ছুক্ষণ অপেক্ষা করি যে, আশপাশে কেউ খোঁজাখুঁজি করছে কি না। তবে প্রকৃত মালিককে না পেয়ে আসার সময়ে এক মোটরসাইকেলচালক এসে বিভিন্নভাবে টাকাটা আমাদের থেকে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আমরা উপায় না পেয়ে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা চাই। পরে মহিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় থানায় গিয়ে টাকাটা জমা দিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, ‘টাকাগুলো আমরা কাউকে না দিয়ে নিজেরা রাখতে পারতাম। কিন্তু সততার কাছে এ টাকা কিছু না। টাকাটা যার, তার জীবনের অনেক বড় কাজও হতে পারে এটা দিয়ে। তাই প্রকৃত মালিককে টাকা পৌঁছে দেওয়ায় আমাদের প্রশান্তি।’

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের, টাকাটা থানা হেফাজতে রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া টাকাগুলা কার, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। খবর পেয়ে এক ব্যক্তি থানায় এসে তার টাকা হারিয়েছে বলে জানান। এ টাকা তার দাবি করে প্রমাণও উপস্থাপন করেন। টাকাটা যে ওই ব্যক্তির, তা প্রমাণিতও হয়েছে।

তিনি বলেন, তারপরেও টাকাটা তার হাতে এখনো আমরা তুলে না দেইনি। আরও কোনো দাবিদার আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য আমরা একদিন অপেক্ষা করছি। আমরা দ্রুত প্রকৃত মালিকের হাতে হারিয়ে যাওয়া টাকা তুলে দেবো।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ