মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবার সড়কে ফিরবে শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির মাত্রা কমে এবার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে পাওয়া যাবে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির মাত্রা কমানো এবং সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কারণ, রাস্তা, ফ্লাইওভার, চার লেন, ছয় লেন, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল—সবকিছু হচ্ছে, এরপরও পুরোপুরি স্বস্তিবোধ করতে পারছে না সরকার। সরকার মনে করে, এর জন্য দায়ী হচ্ছে শৃঙ্খলার অভাব। পরিবহন ও সড়কে শৃঙ্খলার ঘাটতি। এ শৃঙ্খলার ঘাটতিই হচ্ছে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্প্রতি (১৮ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক। বাকি ১ হাজার ২২৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশে পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদফতর। ২০২৩ সালের এপ্রিলে গ্রহণ করা প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ৩০ জুন নাগাদ বাস্তবায়িত হবে। দেশের প্রতিটি জেলার প্রতিটি উপজেলাজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির মাত্রা কমানো এবং সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে মোট ১১৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ১৪০ কিলোমিটার এন-৪ এবং এন-৬ সড়ক করিডোরে পাইলট ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম, অগ্রাধিকার ভিত্তিক কার্যক্রম, টাঙ্গাইল ও বগুড়া জেলায় সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পেশাদার গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পরামর্শক (প্রকল্প সহায়তা, সওজ, বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, পুলিশ), প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যয় নির্বাহ করা হবে। হাইওয়ে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য পাঁচটি ভবন করা হবে। টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি কক্ষ সংস্কার করা হবে।

কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সংযুক্ত বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে। সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পরিবহন সেক্টরের ভিশন হিসেবে ২০৪১ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে। অনুচ্ছেদ ৬ দশমিক ৪-এ ২০২৫ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৩-তে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারিত আছে।

এ ছাড়া এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১১ দশমিক ২-এ ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সবার জন্য প্রবেশগম্য এবং টেকসই পরিবহনব্যবস্থা বিনির্মাণের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ১৪০ কিলোমিটার সড়কে সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়টি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে করে পরিকল্প কমিশন।

একনেকের অনুমোদন সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে। দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির মাত্রাও কমবে। এ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পটি ৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, দেশের সড়ক নিরাপদ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাস্তা, ফ্লাইওভার, ফোর লেন, সিক্স লেন, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল—সবকিছু হচ্ছে, এরপরও আমরা পুরোপুরি স্বস্তিবোধ করতে পারছিলাম না একটা কারণে। সেটা হচ্ছে শৃঙ্খলার অভাব। পরিবহন ও সড়কে শৃঙ্খলার ঘাটতি। এ শৃঙ্খলার ঘাটতিই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরও বলেন, ‘একনেকে পাস হয়েছে মানেই কাজও শুরু হবে। কাজেই নিরাপদ সড়ক করাটাই আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ। সেটার জন্য যখন ফান্ড পেয়েছি, তাই আমার মনে হয় নিরাপদ সড়কের যে স্বপ্ন, তা সত্যি হবে। আমরা চেষ্টা করলে বাংলাদেশের সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে পারবো। পরিবহনকেও নিরাপদ করতে হবে। এখানে শুধু ফান্ডিং হলে হবে না, আমাদের সবাইকে মনেপ্রাণে শৃঙ্খলাবোধের পরিচয় দিতে হবে, দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে।’

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ