দাউদপুর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া সাত্তার বাহিনী

0
203

নিউজ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নে এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু সাত্তার ওরফে এসটি সাত্তার। ইতিপূর্বে র‌্যাবের হাতে অস্ত্রগুলিসহ গ্রেফতার হওয়া সাত্তার দাবড়ে বেড়াচ্ছেন দাউদপুর ইউনিয়নের সর্বত্র।

তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা থাকলেও সে রয়েছে বহাল তবিয়তে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সে করে চলেছে সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুতাসহ নানা ধরনের অপকর্ম। গত কিছুদিনে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে আটকে তাদের মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাত্তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। একেক সময়ে একেক জনপ্রতিনিধির কাছের লোক পরিচয় দিয়ে সাত্তার প্রশাসনে দোর্দান্ড প্রভাব বিস্তার করে চলছে। আসন্ন দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনে সাত্তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাই আগে থেকেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নে খৈসাইর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্র, অপহরণ, দস্যুতা সহ অসংখ্য মামলার আসামী সাত্তার ওরফে এসটি সাত্তার ও তার বাহিনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে। ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর রূপগঞ্জে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাত্তার ওরফে এসটি সাত্তারকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের একটি টিম। পরে তার তথ্য অনুযায়ী একটি অফিস থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও রামদা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাত্তার খৈশাইরের গোলাম মোস্তফার ছেলে।

পরে তাকে রূপগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। সাত্তারকে আটকের পর র‌্যাব-১-এর ডিএডি অপূর্ব চক্রবর্তী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়, ছিনতাই, নারীদের শ্লীলতাহানি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাজধানীকে একাধিকবার অস্ত্রসহ গ্রেফতারও হয়েছে সন্ত্রাসী সাত্তার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, র‌্যাবের হাতে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার হওয়ার আগে ও পরে অসংখ্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে সাত্তারের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী খৈসাইর এলাকায় বেঙ্গল গ্রুপের হেমকো ব্যাটারি কারখানার জমি কেনাবেচার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ নুরুজ্জামানের উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসী সাত্তার বাহিনী। তখন সাত্তার বাহিনীর হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাত্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবার।

২০১৭ সালের ২৮ মে সন্ত্রাসী টেপা সাত্তার বাহিনীর হামলায় শিক্ষার্থী জাহিদুল গুরুতর জখম হয়। তবে সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেয় সন্ত্রাসী সাত্তার বাহিনী। জাহিদুল ছিল উত্তরার আমেরিকান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার বাবা ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে একই এলাকার মোস্তাফা মিয়ার ছেলে এসটি আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে।

 

এর জের ধরে গত ২৫ মে তার ছেলে জাহিদুল ইসলামকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বীরহাটাব এলাকায় একা পেয়ে সাত্তার ও তার লোকজন এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে সাত্তার ও তার লোকজন হাসপাতালে গিয়েই তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

যে কারণে তারা ভিত এবং হাসপাতালে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে সাহেদ মিয়া নামক এক মাটি ব্যবসায়িকে কুপিয়ে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-১৫-৪৪৮০) ও সঙ্গে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা লুটে নেয় এসটি সাত্তার বাহিনী।

কিছুদিন আগে মোঃ হারিজুল মিয়া নামক এক ব্যবসায়ীকেও একইভাবে কুপিয়ে মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-২৬-৪০৬৬) ও নগদ ৩ লাখ টাকা লুটে নেয় সাত্তার বাহিনী। এছাড়াও ইতিপূর্বে খেসাইর এলাকার মোঃ আমিনুল ইসলাম, কলিঙ্গা গ্রামের মোঃ তৌহিদ মিয়া এবং পূর্ব-দাউদপুর এলাকার মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার মোটর-সাইকেল ও নগদ টাকা অপহরণসহ তাদের কুপিয়ে আহত করে। কেউ কিছু বলতে গেলেই তাদের বাড়িঘরে ধারালো অস্ত্র সহকারে হামলা ও লুটপাট চালায় এসটি সাত্তার ও তার বাহিনী।

খৈশাইর এলাকার বৃদ্ধ সামসুল হক জানান, তার ছেলের ঘরের নাতি সায়েদ প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার বিকেলে মাটির বিল দেয়ার লক্ষ্যে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে মটরসাইযোগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রাওনা হন। পরে খৈশাইর এলাকার এসটিএ ব্রিক ফিল্ডের সামনে পৌছাবামাত্র খৈশাইর এলাকার সাত্তার ওরফে এসটি সাত্তারসহ এ বাহিনীর সদস্য রাকিব, আলামিন, স্বপন, ইয়াছিনম জহিরুল, রুবেলসহ ৪ থেকে ৫ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মটরসাইকেলটি গতিরোধ করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে নাতি সায়েদের সঙ্গে থাকা এক লাখ ২৫ হাজার টাকাসহ মটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা করলে সায়েদকে হত্যার পর গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রূপগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসী এসটি সাত্তারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ অন্তত একডজন মামলা রয়েছে। অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পরে জামিনে বের হয়ে সাত্তার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে রূপগঞ্জে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আসন্ন। তবে এসটি সাত্তার এই দাউদপুর নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। যে কারণে আসন্ন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পূর্বেই সাত্তারের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসটি আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, এসটি সাত্তারসহ তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here