ভুলতায় ব্যবসায়ীকে অপহরন করে অমানুষিক নির্যাতন

0
329

নিউজ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিনদুপুরে ঔষধ বিক্রেতা আবু জাফরকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে অপহরনকারীরা। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীর ভাইয়ের মুঠোফোনে কল দিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। পরে ওই দাবীকৃত টাকার একটি অংশ বুঝে পেয়েও মুক্তি না দিয়ে আরো মারধর করে তাকে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দূপুরে উপজেলার ভুলতা এলাকার তাঁতবাজারের সামনে।

ভুক্তভোগী আবু জাফর জানায়, সে ভুলতা তাঁতবাজার এলাকার ঔষধ বিক্রেতা। ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে, রাজধানীর মিটফোর্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ০৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে রওয়ানা হয়। সে সময় বাসে ওঠার জন্য ভুলতা ফ্লাইওভারের সামনে দাড়ালে হঠাৎ একটি কালো হাইয়েচ গাড়ী থেকে অজ্ঞাত লোকজন তাকে গাড়ীতে তুলে নেয়। সাথে সাথে চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে৷ এরপর অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখে পকেটে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। শব্দ করলে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যার হুমকি দেয় তারা৷ একই সময় কালোগ্লাসের ওই গাড়ীটি চলতেই থাকাবস্থায় মারধর করে অপহরনকারীদল৷ পরে তার বড় ভাই ব্যবসায়ী নুরুল হুদার মুঠোফোনে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবী করে।

এ সময় ওই দাবীকৃত টাকা থেকে ১০ হাজার প্রদান করে নুরুল হুদা৷ তবু মুক্তি না দিয়ে ৬ ঘন্টা যাবৎ মারধর করে তারা৷ আবু জাফরের চোখে গুড়ো মরিচ ও মলম লাগিয়ে দিয়ে অজ্ঞান করে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় ফেলে যায় তারা৷ এ সময় ওই এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এদিকে ব্যবসায়ী আবু জাফরের ভাই নুরুল হুদা জানান, অপহরনকারীদের টাকা চেয়ে ফোনের পর তার স্বজনরা প্রথমে ৯৯৯ এ কল দেয়। সে সময় আবু জাফরের মুঠোফোন নাম্বারটি সচল থাকলেও সে কলে কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।

তবে সেখানে কল দিলে তাৎক্ষণিক ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। পরে নারায়ণগঞ্জ গ সার্কেল এএসপি মাহিন ফরাজিকে জানালে তিনি মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে অপরাধিদের অবস্থান সনাক্ত করেন। কিন্তু অপরাধিদের ধরতে পুলিশের ভুমিকা জানাতে পারেন নি তিনি।
একই সময় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে অভিযোগ বা জিডি কোনটিই গ্রহণ করেননি থানা পুলিশ। সেখানে কর্মরত ডিউটি অফিসার মিডফোর্ড এলাকার ঘটনা বলে তাদের রাজধানীর কতোয়ালী থানায় অভিযোগ করতে পাঠান।

এর মাঝে সার্কেল এএসপি মাহিন ফরাজীর দেয়া তথ্যে প্রথম ট্র্যাকিং অবস্থান নরসিংদীর পাঁচদোনায়, পরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ার চর সালুয়ার কথা জানান তিনি। তিনি আরো জানান, আবু জাফরের খোঁজ পেতে অপর স্বজনরা পুলিশের ট্র্যাকিং রেজাল্ট পেয়ে ছুটে যায় কুলিয়ারচরের সালুয়ার দিকে। পরে কুলিয়ার চরের অফিসার ইনচার্জ সুলতান মাহমুদকে ঘটনা জানালে তিনিও আবার ভুলতা পুলিশ ফাড়িতে ফেরত পাঠান। এভাবে এখানে সেখানে পাঠিয়েই পুলিশের ভুৃুমিকা শেষ হয়।

এ বিষয়ে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু জাফর বলেন, অপহরনকারী ও ছিনতাইকারীরা আমাদের মতো ক্ষূদ্র ব্যবসায়ীদেরও টার্গেট করে। আমাকেও হয়তো টার্গেট করে রেখেছিলো। আমি কখন মালামাল কিনতে যাবো এ খবর তাদের কাছে পৌঁছানো রহস্যজনক। পুলিশের আন্তরিকতা থাকলে অবশ্যই এসব জানা যেতো। আমি নির্যাতিত হতাম না।
এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফাঁড়িতে ট্র্যাকিং যন্ত্র নেই। ফলে তাদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পারিনি।
তবে সার্কেল এএসপি স্যারকে অবহিত করলে তিনি অবস্থান সনাক্ত ও যথা ব্যবস্থা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ গ সার্কেল এএসপি মাহিন ফরাজি বলেন, ঘটনাটি শুনার পরপরই ট্র্যাকিং করে অবস্থান বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা সমূহে জানিয়েছি। একটা সময় অপরাধীরা মোবাইল বন্ধ করে দিলে খুঁজে পেতে সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, যেহেতু অপরাধীরা ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে তার মোবাইল ব্যবহার করে ফোন চালু রেখে বিকাশে টাকা দাবী করেছে,সেহেতু খুব সহজেই ধরা যেতো অপরাধীদের। এতে পুলিশের অান্তরিকতাকে দায়ী করছেন তারা।

এরআগে থানার তদন্ত ওসি ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিনের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে তাদের রহস্যজনকভাবে রাজধানীর কতোয়ালী থানায় প্রেরণ করায় থানা পুলিশের গাফিলতিকে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা এ বিষয়ে ভুলতার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দফতরে তাদের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন কর্মসূচীর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here