কবিরাজের দেয়া রুটিপড়া খাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বৃদ্ধসহ আহত-১২

0
562

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে কবিরাজের দেয়া রুটিপড়া খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বৃদ্ধ ও নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এসময় এক প্রবাসীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের গুতুলিয়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, গুতুলিয়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহিমের একটি মোবাইল ফোন চুরি বা হারিয়ে যায়। আর মোবাইল উদ্ধার হওয়ার লক্ষ্যে আব্দুর রহিম বন্দর উপজেলার মদনপুর ইস্পাহানি এলাকার এক কবিরাজের কাছ থেকে রুটিপড়া নিয়ে আসে। আর এ রুটিপড়া আলী হোসেনের ছেলে জজ মিয়াসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের জোর করে খাওয়ানো শুরু করে। এক পর্যায়ে জজ মিয়ার পরিবারের সদস্য প্রবাসী ফারুক মিয়াকে ১টি রুটির স্থলে ৫টি রুটি খেতে দেয়। রুটি খেতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিমসহ তার লোকজন প্রবাসি ফারুককে এলোপাথারি ভাবে পেটাতে থাকে। এসময় প্রবাসি ফারুককে বাঁচাতে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে। প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিম, মাসুম,সুমন, ওসমান, শামিম, আজিজুল, শহিদুল, সাত্তার সীমান্তর, আলাউদ্দিন, বিল্লালসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একদল সন্ত্রাসী কায়দায় রামদা, চাপাতি, কুড়াল, ছুড়াসহ ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জজ মিয়া ও প্রবাসি ফারুকের বসতবাড়িসহ পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মহিজউদ্দিনের ছেলে ইসলাম উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিনের ছেলে প্রবাসি ফারুক ও আনোয়ার আলীর ছেলে নাঈমকে এলোপাতারি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আহতদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে আনোয়ার আলীর স্ত্রী মানসুরা, আলী হোসেন ও ছেলে জজ মিয়া, ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও আমির উদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা বেগমকে পিটিয়ে আহত করে। পরে যারা আহত হয়েছেন তারাসহ তাদের লোকজন পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় প্রতিপক্ষের আরো চার জন আহত হন। শুধু তাই নয়, উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। ঘটনার সময় গুতুলিয়া গ্রামের লোকজন ছুটাছুটি করতে শুরু করে। এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্রর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো হামলা ভাংচুর ও আহতের ঘটনা ঘটতে পারে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনার ব্যপারে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। তারপরও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here