ডিএনডির ৫০ লাখ মানুষ তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর দিকে

0
67

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) এলাকার বাসিন্দা হবে  প্রায় ২২ লাখ। কিন্তু সঠিক পরিসংখ্যান হলে ডিএনডির বাসিন্দা হবে প্রায় ৫০ লাখ। ডিএনডি এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

এই জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১০ সালে সরকার ২৩৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিলেও পরে তা আর সেটি আলোর মুখ দেখেনি। পরে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকার ডিএনডির এক মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের খাল পুনঃখননের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সেনাবাহিনী চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের কারণে দেড় মাস বন্ধ ছিলো ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ। এছাড়াও প্রকল্পের নতুন করে আর্থিক বরাদ্দ অনুমোদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ। যা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদনে সম্মতি প্রদান করেছে।

এখন ডিএনডি অভ্যন্তরের প্রায় লাখ মানুষ তাকিয়ে আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে। আজ ১ সেপ্টেম্বর একনেকের সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিএনডি প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দের (আরডিপিপি) বিষয়টি উত্থাপিত হবে। সেখানে ডিএনডির প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দটির অনুমোদন পেলেই হালে পানি পাবে ওই মেগা প্রকল্পটি। এছাড়া ডিএনডি প্রকল্প সংশ্লিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ডিএনডির এই মেগা প্রকল্প বাস্তবে রূপ নিতে হলে নতুন করে বরাদ্দ আবশ্যক। নাহলে পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যাবে। আজকে একনেকের এই সভায় যদি বর্ধিত আর্থিক বরাদ্দ অনুমোদন হয়ে যায় তাহলে প্রকল্পের বাকি কাজগুলো শেষ করা যাবে। ডিএনডি প্রকল্পে সরকার যে আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছিলো সেই টাকায় প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা গেছে। বাকি কাজ করতে গেলে নতুন করে আরো ৭৩২ কোটি টাকা প্রয়োজন।

বতর্মানে ডিএনডি প্রকল্পের কাজ করছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধিনে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন।
এ বিষয়ে ডিএনডি মেগা প্রকল্প প্রজেক্ট ডিরেক্টর(পিডি) লে. কর্নেল মাশাফিক জানান, পুরো প্রকল্পটি একটি চলমান প্রক্রিয়া । এক এক সেক্টরকে ভাগ ভাগ করে কাজ করতে হচ্ছে। নতুন করে বরাদ্দটি অনুমোদন খুবই প্রয়োজন। সেটি না হলে পুরো কাজটি সম্পূর্ণরূপে বাহ্যত হবে । এছাড়া এ পর্যন্ত যতটুকুস কাজ সম্পন্ন হয়েছে নতুন করে বরাদ্দ না পেলে তা পুরোই ভেস্তে যেতে পারে।

তিনি আরো জানান, ডিএনডি প্রকল্প এলাকায় কাজ করতে গিয়ে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। ওয়াসা, বিদ্যুৎ, তিতাস গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার সার্ভিস লাইন রয়েছে। ডিএনডির মানুষের বাড়িঘরের বর্জ্যেরে জন্য কোনো স্যুয়ারেজ লাইন নেই। ফলে কাজ করতে গেলেই বিভিন্ন জায়গায় সংকট তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া অবৈধ স্থাপনা এবং মানুষের অসচেতনতা তো রয়েছেই।  প্রকল্পটির কাজ এমনভাবে করতে চায় যে রকম সেনাবাহিনীর কাছে মানুষ প্রত্যাশা করে। কাজটি যাতে দীর্ঘস্থায়ী সুফল ও টেকসই হয়। সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। পুরো ডিএনডি এলাকাটি যাতে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এবং আগামী কয়েক যুগে যেন এই এলাকায় কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সেনাবাহিনী।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, আমি কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী ডিএনডি প্রজেক্ট টেবিল এজেন্ডা হিসেবে তুলে অনুমোদন করেছেন। প্রথম দিকে এটা কোন পরিকল্পনায় ছিল না। এখন বিষয়টি পরিকল্পনায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই প্রকল্পটি যেনো আগামী পঞ্চাশ বছর মানুষকে উপকার দিতে পারে সে জন্য আরো টাকা দরকার। এবং টাকার অংকটা কম না। ৭শত কোটি টাকার ওপরে দরকার প্রকল্পটি শেষ করতে। এই প্রকল্পটি করতে সর্বমোট প্রায় ১৩শ কোটি টাকা প্রয়োজন। যার মধ্যে ৫৫৮ কোটি টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা দিয়ে এখন পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। আমি আমার চেষ্টার ত্রুটি করছি না। আপনারা সকলে দোয়া করলে প্রকল্পের বাকি যেই অর্থের প্রয়োজন তা আমরা পেয়ে যাবো। এবং প্রকল্পের কাজও আমরা খুব দ্রুত শেষ করবো।

ডিএনডি প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ৫৮ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে নির্মাণকাজ করা ডিএনডি প্রকল্পটি ২০২০ সালে এসে একটি অপরিকল্পিত এবং অব্যবস্থাপনার নগরীতে পরিণত হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পরিকল্পনা মাফিক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, খাল, জমি ও রাস্তা পুনরুদ্ধার করতে হচ্ছে। একই খাল কয়েক দফা পরিষ্কার করতে হচ্ছে। কারণ অসচেতন মানুষ প্রতিনিয়ত খালেই ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। ফলে পরিকল্পনা মাফিক কাজ বাস্তবায়ন করতে খরচও বেড়ে গেছে অনেক।

এদিকে সরেজমিন ডিএনডির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে এখনো পানি আটকায়। তবে সেটা দ্রুত নেমে যায়। তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। যতদিন ডিএনডি প্রকল্পের কাজ পুরোপুরো শেষ না হবে ততদিন এসব এলাকার জলাবদ্ধতা পুরোপুরি শেষ হবেনা বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন জানান, ডিএনডির জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। বছওে অন্তত ৭-৮ বারআমরা জলাবদ্ধতায় করলিত হই। জনপ্রতিনিধি হিসাবে মুনুষের এই দূর্ভোগে আমরা সম্পূর্ণরূপে অসহায় হয়ে পড়ি। এখন পুরো ডিএনডির প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে আছে। তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীই তাদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here