১৯ বছর পর রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল কমিটি নিয়ে ধোয়াশা

0
99

প্রতিদিন ডেস্ক : দীর্ঘ ১৯ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ ২০০১ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে সভাপতি আনোয়ার ছাদাত সায়েম ও আশরাফুল হক রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন করে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়নি। গত ১৯ বছর আগে যাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তারা সকলেই বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বে চলে গেছেন।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন করে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলে কমিটি দেওয়া হবে বলে নেতাকর্মীরা কেন্দ্র থেকে ইঙ্গিত পান। নতুন করে এমন খবরে এই উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা করে নিতে অর্থের লেনদেনের খবরও শোনা যাচ্ছে নেতাকর্মীদের মূখে। এতদিন কমিটি ছাড়াই ছন্নছাড়াভাবে চলেছে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কার্যক্রম।

তবে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, উপর মহলের তদবীর ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কমিটিতে অযোগ্যদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় না থাকার পরও যারা দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। এছাড়া দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে মাঠে থেকে কাজ করেছেন, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদেরকে কমিটিতে রাখার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। অযোগ্যরা কমিটিতে স্থান পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ও দলীয় কার্যক্রম পালনে ব্যর্থ হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি তিনভাগে বিভক্ত। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু তিনজনই রূপগঞ্জ উপজেলার সন্তান। গত সংসদ নির্বাচনে তিনজনই নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন পান কাজী মনিরুজ্জামান মনির। আসন্ন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটিতে প্রত্যেকেই নিজ নিজ নেতাকর্মীদের জায়গা করে দিতে চেষ্টা করে চলেছেন বলে জানা যায়। আসন্ন কমিটিতে অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে আহবায়ক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ, কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের পক্ষে পদে সম্ভাব্য প্রার্থী সুলতান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর ভুইয়া দিপুর পক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থী নাহিদ হাসান। প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রার্থীতে কমিটিতে স্থান করে দিতে গোপনে তদবীর চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সদস্য সচিব পদে নাসিম হোসেন প্রিন্স, মাসুম বিল্লাহ, মিঠুসহ বেশকয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিগত কমিটিতে থাকা রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা সেচ্ছাসেবকদলের আনোয়ার ছাদাত সায়েম বলেন, ছাত্রদল আমার প্রাণের সংগঠন। আসন্ন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যারা দলের বিপদের সময় মাঠে থেকে মামলা হামলা ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে তাদের নেতৃত্ব পাওয়া উচিত বলে আমি করি। ত্যাগী নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে মাঠে চাঙ্গা রাখতে পারবে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বলেন, আসন্ন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে ত্যগীদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি হবেনা। এমনি আমার কোন আত্মীয় বা ভাই যদি মাঠে কাজ না করে থাকে তাহলে সেও আসন্ন কমিটিতে থাকবে না।##

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here