হাসেম ফুডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, খোঁজ মিলছেনা অনেক শ্রমিকের, ক্রমেই বাড়ছে স্বজনদের আহাজারি

0
142

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় আগুন লাগার ১৬ ঘন্টা পরেও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শুক্রবার সকাল সোয়া ৯ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি ফায়ার সার্ভিস। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে কাজ করেছে ডেমরা, কাঞ্চন, সিদ্ধিরগঞ্জ, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৮ টি ইউনিট। আগুনের ব্যাপকতা কিছু কমায় শুক্রবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত স্বপ্না আক্তার (৪৫), মীনা আক্তার (৪১) ও মোরসালিনসহ (২৮) তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও নিহতের সংখ্যা আরও আনেক বেশি বলে ধারনা করা হচ্ছে। এখনো ৭০-৮০ জন শ্রমিক ওই ভবনের ভেতরে রয়েছে বলে জানান কারখানার শ্রমিক ও নিখোঁজের স্বজনরা।

নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকান্ডের সময় ৬ তলা ভবনটির মধ্যে ৪ তলার শ্রমিকরা কেউ বের হতে পারেননি। সিকিউরিটি ইনচার্জ ৪ তলার কেচি গেটটি বন্ধ করে রাখায় কোন শ্রমিকই বের হতে পারেনি। প্রতিদিন ৪ তলায় ৭০-৮০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। চতুর্থ তলার শ্রমিকদের ইনচার্জ মাহবুব, সুফিয়া, তাকিয়া, আমেনা, রাহিমা, রিপন, কম্পা রানী, নাজমুল, মাহমুদ, ওমরিতা, তাছলিমাসহ প্রায় ৭০-৮০ জন শ্রমিকের খবর পাওয়া যাচ্ছেনা। এদিকে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা ফ্যাক্টরীর সামনে এসে ভীড় জমায় আপনজনের খোঁজে। কারখানার সমানে নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারীতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানার চারতলার ভবনের আগুন জ¦লতে দেখা যায়। তাছাড়া ধীরে ধীরে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়েও পড়ছে। কারণ ভবনের পঞ্চম তলায় ছিল ক্যামিকেলের গোডাউন।

এ বিষয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শাহ-আলম বলেন, মধ্যরাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও সকাল ৬ টার দিকে আবার কারখানার ৪ তলায় আগুন বাড়তে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণের আগ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট।

স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া কারখানায় আগুন লাগার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ কেচি গেটের তালা না খোলায় শ্রমিকরা বের হতে পারেনি।

এ বিষয়ে ঢাকা ফায়ার সার্ভির সহকারী পরিচালক দিনোমনি শর্মাকে জিজ্ঞাসা করা হলে আপাতত তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজী হয়নি।

এ বিষয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ওসমান গনি বলেন, ডেমরা ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকান্ডের শুরু থেকেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সঙ্গে আরও ১৭ টি ইউনিট কাজ করছে পর্যায়ক্রমে। কিন্তু কারখানার ৬ তলা এ ভবনটিতে পরিস্থিতি একটু জটিল মনে হচ্ছে। চেষ্টা চলছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপন করার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here