জামদানি পল্লীতে আকাশে মেঘ জমলেই কেপেঁ উঠে বুক

0
121

প্রতিদিন ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নোয়াপাড়ার জামদানি পল্লীতে আকাশে মেঘ জমলেই মনে মনে ভীত হয়ে পড়েন জামদানী পল্লীর প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে তাঁত বুনন ব্যহত প্রায় ৫ হাজার তাঁতীর। ঈদের আগে তাঁত বুনন ব্যহত হওয়ায় বিশাল ক্ষতির সম্মূখীত হতে হচ্ছে তাঁতীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে জামদানি পল্লীর প্রায় প্রতিটি ঘরেই পানি প্রবেশ করেছে। এতে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার দামের জামদানী ও জামদানীর তৈরীর তাঁতকল। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। ড্রেনের ময়লা পানির সাথে চলে ঘরের ভেতরে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় তাঁতীরা অভিযোগ করেন, ভারী বর্ষণ ছাড়া স্বল্প বৃষ্টিতেই জামদানী পল্লী এলাকায় পানি জমে যায়। গত ৮ বছর ধরেই একই সমস্যায় দিনানিপাত করছে তারা। গত একযুগ আগে জামদানী পল্লীর পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। জমে থাকা পানি ড্রেন দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে পড়তো। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করায় এক বছর যেতে না যেতেই ড্রেনটি অনেকটা জরাজীর্ণ হয়ে যায়। সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় স্বল্প বৃষ্টি হলেই জমে থাকছে পানি দিনের পর দিন। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। এছাড়া ড্রেনের ময়লা পানির কারণে ছড়াচ্ছে ডায়েরীয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ। জলাবদ্ধতার কারণে জামদানী পল্লীর তাঁতীদের ভোগান্তি যেন দিনদিন বেড়েই চলছে। তাঁতীরা বারবার জামদানী পল্লী বিসিকের কর্মকর্তাদের বেশকয়েকবার পানি নিষ্কাশনের করে দেওয়ার কথা বলেও কোন কাজ হয়নি। জামদানী পল্লী বিসিক কর্তৃপক্ষের গাফলতি, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে পড়া, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণেই জামদানী পল্লীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে জানান তাঁতীরা। জামদানী পল্লী বিসিকে ৩৭৪ টি প্লট রয়েছে বলে জানা যায়।

নোয়াপাড়া মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য আয়ুব আলী বলেন, গত একযুগে জামাদানী পল্লীর কোন উন্নয়নই হয়নি। একযুগ আগে করা রাস্তাঘাট ভেঙ্গে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ড্রেনের অবস্থা খুব নাজুক। বিসিক কর্তৃপক্ষের গাফলতি ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জামদানীর পল্লীর জলাবদ্ধতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতি কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাবে।

রূপগঞ্জ জামদানী শিল্প বিসিক নগরী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বলেন, এ অর্থবছরে জামদানী শিল্প বিসিক নগরীতে পানির পাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জামদানীর পল্লীর রাস্তাঘাট নির্মাণ ও ড্রেনের ব্যবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here