লাশের ভাগাড় রূপগঞ্জ!

0
262

প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক : রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে রূপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। এ উপজেলায় চলতি বছরের ৬ মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২১ টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চলতি বছরই নয়, প্রতি বছরই রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ধীরে ধীরে অজ্ঞাত লাশের নিরাপদ ঠিকানা হয়ে উঠছে রূপগঞ্জ। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হত্যার পর লাশ সুযোগ বুঝে রূপগঞ্জে ফেলে যাচ্ছে অপরাধীরা।

রূপগঞ্জের অনেক এলাকা দুর্গম হওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা। লাশ পাওয়ার সংবাদ শুনে-শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে রূপগঞ্জবাসী। নীরব-নিস্তবব্ধ থাকার কারণে পূর্বাচল উপশহর ও শীতলক্ষ্যা নদীকে লাশ ফেলার নিরাপদ ঠিকানা হিসাবে বেছে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের দাবী, লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না। তদন্তও আগায় না। নিরাপত্তাও জোড়দার করা হয় না। গত কয়েক বছরের লাশ উদ্ধারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, উপজেলার ১৫ টি পয়েন্টকে লাশ ফেলার নিরাপদ ঠিকানা হিসাবে বেছে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমে বালু নদী ঘেঁষা রাজধানী ঢাকা। পূর্বে আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও। উত্তরে গাজীপুর। আর দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ-সোনারগাঁও। এসব এলাকার সঙ্গে রূপগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব সহজ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে রূপগঞ্জে যাতায়াতের সড়ক রয়েছে ৭ টি। এদের মধ্যে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর হয়ে রূপগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী-ষ্টাফ কোয়ার্টার হয়ে রূপগঞ্জ, মেরাদিয়া-আমুলিয়া হয়ে রূপগঞ্জ, নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী হয়ে রূপগঞ্জ, বাড্ডা-মাদানী নগর-বেড়াইদ হয়ে রূপগঞ্জ, ডুমনী-পাতিরা হয়ে রূপগঞ্জ, কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে রূপগঞ্জ ও ডেমরা-চনপাড়া হয়ে রূপগঞ্জ সড়ক। এসব সড়কগুলোর মধ্যে চিটাগাং রোড-রূপগঞ্জ ও ষ্টাফ কোয়ার্টার-রূপগঞ্জ সড়কটি দিন-রাত যানবাহন চলাচল ও ব্যস্ত থাকলেও বাকী সড়কগুলো রাত নেমে আসলেই নেমে আসে নীস্তব্ধতা। নির্জন-নীরব এসব সড়ক দিয়ে লাশ, মাদক বহন থেকে শুরু করে সব ধরণের অপকর্ম ঘটে থাকে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এসব সড়কে পুলিশের তেমন কোন তৎপরতা নেই বলেও জানা গেছে। এছাড়া বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটে থাকে। এ দুই নদীতে পুলিশের নৌ-টহলের কোন ব্যবস্থা নেই।

অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সময়ে লাশ উদ্ধারের ঘটনা সমীক্ষা করে দেখা গেছে, রূপগঞ্জের ১৫ টি স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাচল উপশহর ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দৃর্বত্তরা নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি লাশ এসব এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আধুরিয়া, কর্ণগোপ, বালু নদী, কায়েতপাড়ার ছনেরটেক-দেইলপাড়-চনপাড়া সড়ক, জিয়সতলা, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের ছেলুরবাড়ি, পলখান, পূর্বাচল উপশহরের ৮, ৯ নম্বর সেক্টর ও ৩শ’ ফুট সড়ক ও দাউদপুর-ভোলাবো ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা-বিলঝিল।

রূপগঞ্জ থানা ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মাসে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২১ টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির পরিচয় মিললেও বাকীদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। গত ১৩ ফেব্রƒযারী শীতলক্ষ্যা নদের নোয়াপাড়া বটতলা খেয়াঘাট থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১১ জানুয়ারী পূর্বাচল উপ-শহরের ২ নং সেক্টর এলাকা থেকে মজুর উদ্দিন নামে এক ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৬ মার্চ কাঞ্চন এলাকা থেকে সুরভী আক্তার নামে এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদের মুড়াপাড়া বাজার ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা পুরুষ ও বাউলিপাড়া এলাকার ঘাট থেকে আরেক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৯ এপ্রিল পূর্বাচল উপশহরের ১৮ নং সেক্টর থেকে শামীম নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। চলতি সপ্তাহের পহেলা জুলাই কায়েতপাড়ার কোটাপাড়া বিল থেকে তরুণের লাশ ও চনপাড়া পূর্নবাসন এলাকা থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত গত ২ জুলাই কাঞ্চন কোশাব এলাকায় ড্রামের ভেতর থেকে ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কথা হয় লাশ উদ্ধারকারী ডোম জাগু মিয়ার সঙ্গে। তিনি তার অভিজ্ঞতার বর্ণণা দিয়ে  জানান, অন্য স্থান থেকে হত্যার লাশ রূপগঞ্জের দূর্গম ও সুনশান এলাকা গুলোতে ফেলা হয়। রূপগঞ্জের অনেক এলাকা নীরব থাকায় অপরাধীরা সুযোগ কাজে লাগায়। প্রত্যেক মাসেই রূপগঞ্জে লাশ পাওয়া যায়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান রূপগঞ্জ প্রতিদিনকে বলেন, রূপগঞ্জের অনেক এলাকা অনেক নীরব। আর এ সুযোগ নিয়ে লাশ ফেলে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। তবে গুরুত্বপূর্ন স্পটগুলোতে পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here