সোলাইমান হত্যাকান্ড চেয়ারম্যান আলমাছকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার-৩

0
3049

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাছের খামার থেকে ডেকে নিয়ে সোলেইমান (৩৬) নামে যুবলীগকর্মীকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ ও তারাব পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর মনির হোসেনসহ ২১ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।

বুধবার সকালে নিহত সোলেইমানের ছোট রাজীব মিয়া (৩২) বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার গর্ন্ধবপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে শাহবাজ, একই এলাকার জয়নালের ছেলে ফজলুল হক ও মাছিমপুর এলাকার ছানু মিয়ার ছেলে মো ঃ আক্তার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সোলেইমান উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের নাশিঙ্গল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মৎস খামারে মাছ চাষ করে আসছিল। গত মঙ্গলবার (পহেলা জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মাছের খামারের বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় পুকুরের চারপাশে বাধঁ দিতে যায়। তারাব পৌরসভার এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম মনির ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তির জন্য সোলেইমানকে গর্ন্ধবপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। দুপুর ১২ টার দিকে সোলেইমান ও রাজু, বাবু, এসকে সোলমান গর্ন্ধবপুর নামাপাড়া মসজিদের পশ্চিমপাশে বালুরমাঠ পাকা রাস্তায় পৌছাঁলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ ও চেয়ারম্যানের আপন ভাই রোমান মেম্বারের হুকুমে কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম মনির, শাহবাজ, মোবারক, মামুন, আমির, আল-আমিন, শুভ, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তফা, নুরুল ইসলাম ওরফে নূরা, ফজলুল হক, তারেক, রহমান, মোঃ আক্তার, ইকবাল, বিল্লাল ওরফে লম্বা বিল্লাল, মনোয়ার আলী, রুবেল শিকদারসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সোলেইমান ও তার সঙ্গে থাকা রাজু, বাবু, এসকে সোলমানকে এলোপাথারিভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম মনিরসহ প্রতিপক্ষের লোকজন সোলেইমানকে এলোপাথারিভাবে লোহার হ্যামার ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। সোলেইমানের সঙ্গে থাকা এসকে সোলেইমান বিষয়টি ছোট ভাই রাজীবকে জানালে রাজীব ঘটনাস্থলে পৌছে সোলেইমানকে প্রথমে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে সোলেইমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল ৩ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোলেইমানের সঙ্গে থাকা রাজু ও এসকে সোলেমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।

এর আগে, ২৮ মে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মাছিমপুর এলাকায় চেয়ারম্যান সমর্থকদের সঙ্গে সোলায়মানসহ মোহাম্মদ আলী, রিয়াজ, সেলিম, সবুজসহ তাদের লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ বাদী হয়ে নিহত সোলাইমানসহ ২৫ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন।

এদিকে, এ হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলসহ আশ-পাশের এলাকার মানুষ ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যায়। হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন বলেন, সোলেইমান যুবলীগের কেউ নয়। তবে হত্যাকান্ডের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ হত্যাকান্ডের জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়ের আহমেদ আলমাছকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here