কায়েতপাড়ায় আ’লীগ কার্যালয় ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ভাংচুর লুটপাট

0
165

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা স্থানীয় আওয়ামীলীগ কার্যালয় ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ পরিবারের পাঁচ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সন্ত্রাসীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপর দিকে, এসব ঘটনার আগে পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতিক) এর এপিএস কামরুজ্জামান হীরাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িতে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে কামরুজ্জামান হীরার পক্ষ থেকে। হামলার ঘটনা ঘটানোর জন্যই কামরুজ্জামান হীরা নিজের গাড়িতে গুলি করার নাটক সাজিয়েছে বলে দাবি করছে হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ্যরা।

গত সোমবার (০৮ মার্চ) রাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বড়ালুপাড়াগাঁও ও চনপাড়া বড়বাড়ি এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

এদিকে, (৯ মার্চ) বিকেলে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও আহতের ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বড়ালুপাড়াগাঁও বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এক পক্ষ। আরেক পক্ষ পুর্বগ্রাম এলাকায় পাল্টা পাল্টি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।

আহত আশরাফুল আলম জেমিন জানান, তিনি চনপাড়া বড়বাড়ি গ্রামের মৃত নুরুল আলমের ছেলে। এছাড়া কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহেদ আলী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর তার বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ আলী ও বহিরাগত কামরুজ্জামান হীরার নেতৃত্বে শমসের ডাকাত, স্বপন, শাওন, নাজমা বেগম, লিটন, মিল্লাত, ফারুক ভুইয়া, রাসেলসহ ২০/২৫ জনের একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ সশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরে আশরাফুল আলম জেমিনের বাড়ির গেইটের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। বাঁধা দিতে গেলে জেমিনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এসময় মা রাশিদা বেগম ও বড় ভাবি রিয়া আক্তার, ভাতিজি আফিফা, বড় ভাই আহাম্মদ হাসান সৈকত এগিয়ে এলে তাদের এলোপাথারি ভাবে মারপিট করে সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ ৮ লাখ টাকা, ২৪ ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি এলইডি টেলিভিশন, একটি এসি, একটি মটরসাইকেলসহ প্রায় ঞঠ ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।

অপর ঘটনায় মহিউদ্দিন মিয়া জানান, তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি। তিনিসহ ৬নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতি জামান বেপারীসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জাহেদ আলীর অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে আসছেন। আর এর জের ধরে রাত ১১টার দিকে পাড়াগাঁও বাজারে অবস্থিত তাদের আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে প্রতিপক্ষ জাহেদ আলী ও কামরুজ্জামান হীরার নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় কার্যালয়ে থাকা কাঁচের গ্লাস, চেয়ার-টেবিল ও এসি ভাংচুর করে। এছাড়া নগদ ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ মালপত্র লুটে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

এ ব্যপারে কামরুজ্জামান হীরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে জানান, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত মাইক্রোবাসে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

আশরাফুল আলম জেমিন বলেন, হামলার ঘটনা ঘটানোর জন্যই কামরুজ্জামান হীরা নিজের গাড়িতে গুলি করার নাটক সাজিয়েছে।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল আউয়াল বলেন, আওয়ামীলীগ কার্যালয় ভাংচুর ও ছাত্রলীগ নেতা আসরাফুল আলম জেমিনের বাড়িত হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, পৃথক ঘটনায় দুটি অভিযোগ পেয়েছি। একটি মামলা হয়েছে, অপরটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here