অবসাদে যেতে পারেন কালের সাক্ষী মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িতে

0
416

আতাউর রহমান সানী : মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। বর্তমানে সরকারি মুড়াপাড়া কলেজে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এটি কলেজের রূপান্তরিত হলেও এটির ঐতিহ্য ও বা পরিচিত কোন অংশে কমে যায়নি। প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক-বাহক কালের সাক্ষী নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। আপনি যদি শহরের ক্লান্তিময় জীবন থেকে বের হয়ে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে চান তাহলে ঘুরে যেতে পারেন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি থেকে।

জানা গেছে, জমিদার রামরতন ব্যানার্জী জমিদার বাড়িটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও জগদীশচন্দ্র ব্যানার্জী এটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। শহরের ব্যস্ত সময় থেকে একটুখানি অবসাদে আপনি ঘুরে আসতে পারেন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি।

কোথায় অবস্থিত
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার অতি পরিচিত একটি স্থান মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চন রূপসী সড়কের পাশে জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।

নির্মাণশৈলী
জমিদার রামরতন ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালে ৪০ হেক্টর জমির উপর নির্মাণ শুরু করেন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। তিনি নাটোর স্টেটের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এবং তার সততার কারণে একটি উচ্চ পদে উন্নীত হন। কিন্তু প্রচলিত আছে, রামরতন ব্যানার্জী শুধু এই বাড়ির ভিত্তি ও কাঠামো তৈরি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালে পুরনো বাড়ি ছেড়ে পেছনে আরো একটি প্রাসাদ তৈরি করেন। কথিত আছে, ১৯০৯ সালে জগদীশচন্দ্র ব্যানার্জী এই ভবনটি সম্পন্ন করেন। তিনি দুইবার দিল্লির কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। জগদীশচন্দ্র ব্যানার্জী তাঁর শাসনামলে অনেক কিছু তৈরি করেছিলেন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় তিনি কলকাতা চলে যান।

জমিদার বাড়িটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য

জমিদার বাড়িতে প্রায় একশটির বেশি কক্ষ আছে। যার প্রায় সবগুলোতেই পাবেন নিপুণ হাতের কারুকার্যের ছোঁয়া। এতে রয়েছে কাচারিঘর, অতিথিশালা, নাচঘর, পুজামণ্ডপ, বৈঠকখানা, ভাঁড়ারসহ বিভিন্ন কক্ষ। জমিদার বাড়ির মূল ভবনটিই মুরাপাড়া ডিগ্রী কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার পাশে ১৯৯৫ সালে আরও একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হয়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ জমিদার বাড়ির চেয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছে জমিদার বাড়িটি। কিন্তু মূল ভবনের পেছন দিকে গেলে দেখা যায়, কীভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে এই বাড়িটি।

এছাড়া বাড়ির পুকুরঘাটে বসে আশপাশের প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য যেকারো মন ভাল করে দিতে পারে। এছাড়া সু-সজ্জিত অডিটোরিয়াম ও চোখ ধাধানো সৌন্দর্য দেখলে আপনার মন কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতেও পারে।

ভাবে যাবেন
ঢাকার সায়েদাবাদ, গুলিস্তান অথবা যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘলা, গ্লোরী, আসিয়ান পরিবহন অথবা নরসিংদী ভৈরবগামী যেকোন বাসে রূপসী বাসস্ট্যান্ড অথবা ভুলতা বাস স্টেশনে নামতে হবে। (ভাড়া-৩০-৪০ টাকা) তারপর রিকশাযোগে জমিদার বাড়ি। (ভাড়া ৫০-৬০ টাকা)

রূপসী বাসস্টেশন থেকে সিএনজি করে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি যাওয়া যায় (ভাড়া ২০)।

এছাড়া ডেমরাঘাট হয়ে উত্তর দিকের রাস্তা ধরে মাঝিনা ঘাট পাড় থেকে নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পার হলেই জমিদার বাড়ি। সে সেক্ষেত্রে খরচ হবে ৫০-৬০ টাকা)।

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করতে কোন ধরনের ফি দিতে হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here