রূপগঞ্জের কোটি টাকার ফুল সুবাস ছড়াচ্ছে সারাদেশে

0
409

আতাউর রহমান সানী : ফুলকে সুন্দর্যের প্রতীক বা ভালবাসার প্রতীক মনে করা হয়। ফুলকে ভালবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। সেই ভালবাসার ফুলেই লেগেছে বানিজ্যের ছোঁয়া। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ’পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসা দিবস ও ২১ শে ফেব্রুয়ারী।

এ বিশেষ দিন গুলোকে কেন্দ্র দেশে ব্যাপক ফুলের চাহিদা থাকে। আর বিশেষ দিনগুলোকে সামনে রেখে পিছিঁয়ে নেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাসুমাবাদ, তারাব, গর্ন্ধবপুর , গুতিয়াব, পিতলগঞ্জ ভুলতা আজিজ নগর, ভোলাবো ও পূর্বাচল উপশহরসহ কয়েকটি এলাকার ফুলচাষীরা।

তারা বর্তমানে ফুল গাছে পরিচর্যা ও ফুল তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল চাষীরা। এসময়টাতে রূপগঞ্জ উপজেলার এসকল এলাকাগুলো থেকে প্রায় এক কোটি টাকার ফুল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্রি হয়।

সরেজমিন ঘুরে ফুল চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ও মাসুমাবাদ ও আজিজ নগর এলাকার কৃষকরা রীতিমতো ভিন্ন পন্থ্যা অবলম্বন সাবলম্বী হয়েছেন। যেখানে ১০ বছর আগেও ধান, আলু, মরিচ, মুলা, বেগুনসহ প্রচলিত মৌসুমি ফসলের চাষাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষি কার্যক্রম। কিন্তু দিন বদলে গেছে। চাষীরা তাদের জমিতে নানা জাতের ফুল চাষ করছেন। এতে পাল্টে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষে লাভ বেশি হওয়ায় ফুল চাষকেই প্রধান্য দিচ্ছেন চাষীরা। মাসুমাবাদ, ভুলতা আজিজ নগর ও ভোলাবসহ আশপাশের এলাকা গুলোতে চাষ করা হয়েছে লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, চেরি, বেলি, কামিনী, সূর্যমুখী, ডায়মন্ড, গরম ফেনিয়া ও চন্দ্র মল্লিকাসহ হরেক রকমের ফুল।

ভুলতা আজিজ নগর এলাকার ফুল চাষী পিয়ার আলী জানান, রূপগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ জমিতে শুষ্ক মৌসুমে রবিশস্যসহ নানা আবাদ হতো। ফুল চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় চাষীরা এখন রবিশস্য চাষের পরিবর্তে ফুল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এ এলাকা গুলো থেকে প্রতিবছরই প্রায় এক কোটি টাকার ফুল যায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফার্স্ট নাইট, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরসহ জাতীয় দিবসগুলো ছাড়াও জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, গায়ে হলুদ, গাড়ি সাজানো, বিভিন্ন ধরনের পূজা-পার্বণ ও সভা-সমাবেশে ফুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। এসব দিবস এলে ফুলের দাম একটু বেশি পাওয়া যায় বলে। তবে ফুল চাষীরা সরকারিভাবে সুযোগ সুবিধা পেলে ফুল চাষেল ফলন আরো হবে তারা আশাবাদী।

কথা মাসুমাবাদ এলাকার সফল ফুলচাষী জালাল মিয়া সঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাড়ির পাশের ২০ শতাংশ জমিতে ফুলের চাষ করেন। প্রথম বছরেই পাঁচ হাজার টাকা পুঁজিতে লাভ হয় ১০ হাজার টাকার মতো। প্রথম বছরেই ভালো লাভ হওয়ায় পরের বছর আরও জমিতে ফুলের চাষ করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করছেন। এছাড়া এ এলাকার শুধু জালাল মিয়া ছাড়াও জয়নাল, বাতেন, পিয়ার আলী, সোলেমানসহ আরও অনেক যুবক ফুল চাষকে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবন পাল্টে নিয়েছেন।

ভোলাব এলাকার ফুলচাষী মিয়াজ উদ্দিন জানান, ফুল চাষ করে তিনি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। চার লাখ টাকা খরচ করে দুই বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। পাকা বাড়ি নির্মাণ ও প্রাইভেটকার- সব ফুল চাষের মাধ্যমে হয়েছে। তার পরিকল্পনা আরও অধিক জমিতে ফুল চাষ করা। তার মতো অনেকে ফুল চাষ করে ভাগ্যকে বদলে দিয়েছেন। এলাকার বেকার যুবকরা এখন ফুল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা বাড়ির আঙিনায় ফুল চাষ করে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নূর বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফুল চাষীদের স্বর্বাত্বক সহযোগীতা করা হচ্ছে। উপজেলায় প্রায় ১৬ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করা হয়। এছাড়া তাদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা চাইলে সরকারিভাবে ঋণ নিয়ে ফুল চাষ আরো বিস্তার করতে পারবে। বেকার যুবকরাও ফুল চাষে এগিয়ে আসছে। এতে করে বেকারত্ব অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করছি।##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here