রূপগঞ্জ প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তা থেকে খুটি অপসারণ

0
310

আতাউর রহমান সানী : জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল রূপগঞ্জ প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভায়েলা হুরার বাড়ি এলাকার নির্মাণনাধীন রাস্তায় চারটি খুটি অপসারণ করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর ”সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুটি, চলাচলে ভোগান্তি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের।

শুক্রবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ রাস্তা থেকে খুটি অপসারণের কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয় ও উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এ শিল্প কারখানা গড়ে উঠাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রূপগঞ্জ উপজেলায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ভায়েলা এলাকার হুরার বাড়ি প্রায় দুই শতাধিক পরিবার একটি রাস্তার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। গত দুই বছর ধরে এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে রাস্তাটি নির্মাণের ব্যাপারে আবেদন করতে থাকে। অবশেষে এলাকাবাসীর আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলার এলজিইডির অধীনে চলতি বছর ৩৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ১০ ফুট প্রসস্থ্য ও ৭’শ মিটার রাস্তাটির ড্রেন নির্মাণসহ দরপত্র সম্পন্ন হয়। পরে এ বছরের শেষ দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রাস্তাটি নির্মাণের দায়িত্ব পান প্রীতি এন্টার প্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তাটির মাঝে ৪ টি বিদ্যুতের খুটি রয়েছে। এ বছরের শেষের দিকে চারটি খুটি না সরিয়ে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষের দিকেও হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অথবা পল্লী বিদ্যুতের কর্তৃপক্ষ খুটি চারটি সরানো ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি এলাকাবাসী পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারকে জানানো হলে তারা এ ব্যাপারে উদাসীনতা দেখান। চারটি বিদ্যুতের খুটি মাঝখানে রেখে রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে রাস্তাটি দিয়ে কোন প্রকার রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি টেক্সিসহ কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এসব রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি টেক্সিসহ যানবাহন প্রবেশ করতে না পারলে ভোগান্তিতে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। এছাড়া জরুরী রোগীর জন্য এম্বুলেন্স সেবাও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি খুটি চারটি না সরিয়ে রাস্তার নির্মাণ সম্পন্ন হলে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার নির্মাণ কাজ অনেকটা বিফলে যাবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, অনেক ভোগান্তির পর রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষের পথে। কিন্তু বিদ্যুতের খুটি না সরিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে। আমরা রাস্তাটির ঠিকাদারকে বিদ্যুতের খুটি সরানো কথা বললে তিনি বলেন, আমাকে বিদ্যুতের খুটি সরানো জন্য আলাদা কোন বাজেট দেওয়া হয়নি। এটি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাজ। অপরদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে খুটি চারটি সরানোর কথা বললে তারা বলেন, খুটি সারাতে হলে নিয়ম অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দিলে ঠিকাদারের মাধ্যমে খুটি সরানো হবে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতিতে খুটি দুটিসহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এই দুই দপ্তরের গাফলতিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এক সপ্তাহের মাঝে রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ করার আগে বিদ্যুতের খুটি সরানো না হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে অন্দোলন করবে বলে হুশিয়ারি দেন।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির খুটি গুলো দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here