মেয়াদ উত্তীর্ণের ১০ মাস পরও হয়নি রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

0
839

ডেস্ক রিপোর্ট : রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ১০ পেরিয়ে গেলেও নতুন করে দেওয়া হয়নি কোন প্রকার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এতে করে নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাইল রাসেল ২০১৯ সালের ১ লা ফেব্রয়ারী এক বছরেরর জন্য ফয়সাল আলম শিকদারকে সভাপতি ও শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুমকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে সহ-সভাপতি তানজির আহমেদ, নাজমুল হাসান সবুজ, মো ঃ ইমন ও ‍যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক খোকন, সাদ্দাম হোসেন তপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, মিরাজ মোল্লা, রুবায়েত রাকিব ও সেলিম মাহমুদকে দপ্তর সম্পাদক করে ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের ১ লা ফেব্রয়ারিতেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি।

তবে চলতি বছর পূর্ণাঙ্গ কিমিটির অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ দেওয়া হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, আমরা অনেক বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। কেন্দ্রীয় ও জেলার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও ১০ মাস পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এসময় নেতাকর্মীরা উপজেলা ছাত্রলীগের ৬১ সদস্য বিশিষ্টি কমিটির অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া বর্তমানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির বেশকয়েকজন নেতাকর্মী বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ বহন করছেন অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার রূপগঞ্জ প্রতিদিনকে বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটির দেওয়ার পর উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে।

ছাত্রলীগ কমিটির নীতিমালা-

৮। আঞ্চলিক শাখাঃ
সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কেবলমাত্র সাংগঠনিক কার্যাদির সুবিধার জন্য বা সমন্বয় সাধনের জন্য অঞ্চল ভিক্তিক আঞ্চলিক শাখা গঠন করতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা বা উপজেলা কমিটির সভায় প্রস্তাব পাশ করে তা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনের জন্য পেশ করতে হবে।আঞ্চলিক শাখার কোন প্রতিনিধি ঊর্ধ্বতন শাখার বিষয় নির্ধারণী কমিটির সভ্য হবেন না। আঞ্চলিক শাখার সাংগঠনিক বিন্যাস ইউনিয়ন কমিটির অনুরূপ হবে।

৯। উপজেলা শাখাঃ ৬১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা শাখার নির্বাহী সংসদ নিম্মরুপে গঠিত হবেঃ
ক) সভাপতি ১(এক) জন, সহ সভাপতি ৭(সাত) জন, সাধারন সম্পাদক ১(এক) জন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ৩(তিন) জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩(তিন) জন, প্রচার সম্পাদক ১(এক) জন, দপ্তর সম্পাদক ১(এক) জন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ১(এক) জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১(এক) জন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, সমাজসেবা সম্পাদক ১(এক) জন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, তত্ত্ব ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন,অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, বিজ্ঞান ও তত্ত্ব প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, গনশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ১(এক) জন, ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ১(এক) জন, বিভাগীয় উপ-সম্পাদক ১৮(আঠারো) জন, সদস্য ১০(দশ) জন।
খ) উপজেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। উপজেলা শাখাকে উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে।

গ) উপজেলা সম্মেলনে স্ব স্ব সাংগঠনিক উপজেলা শাখার অন্তর্ভুক্ত বেসরকারি কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয় , মাদ্রাসা ও ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক , আহ্বায়ক ও যুগ্ন-আহ্বায়ক, উপজেলা শাখার নির্বাহী সংসদের সকল কর্মকর্তার বিষয় নিরধারনি কমিটির সদস্য(নির্বাচকমণ্ডলী) হবেন।
ঘ) প্রত্যেক উপজেলা শাখা ২৫ জন কাউন্সিলর জেলা শাখার সম্মেলনে প্রেরন করবেন । কাউন্সিলরদের তালিকা উপজেলা শাখার সম্মেলনেই চুড়ান্ত করে তার কপি জেলা শাখা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে প্রেরন করা হবে।

ঙ) সরকারি কলেজ, বেসরকারি কলেজ( কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কর্তৃক অনুমতিসাপেক্ষে) ও জেলার মর্যাদা প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সমূহ উপজেলা শাখা হিসেবে গণ্য হবে এবং তার নির্বাহী কমিটির সদস্যরাই বিষয় নির্ধারণী কমিটির সদস্য বলে গণ্য হবেন।
চ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে পৌর শাখাসমূহ উপজেলা শাখার মর্যাদা প্রাপ্ত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here