ভুলতা ফ্লাইওভারে যানজট

0
195

জাহাঙ্গীর মাহমুদ: ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে যানজট নিরসনের লক্ষে নির্মাণ করা হয়েছে ভুলতা ফ্লাইওভার। ফ্লাইওভারের এশিয়ান হাইওয়ে অংশে যানজট এখন নিত্যদিনের। মালবাহী যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। সময়মতো গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে না পেরে মালামাল অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। আর এই ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসাধারণ থেকে শুরু করে পথচারীরাও।

রোববার সকালে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের ভুলতা ফ্লাইওভারে যানজট দেখা দেয় । ভোগান্তির শিকার হয়ে অনেক যাত্রী সাধারন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে । আর এসব যানজট সৃষ্টি হওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায় নিয়ম ভঙ্গ করে যানবাহন চলাচল, অধক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী কাউন্টার, ওভারব্রীজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের সড়ক পারাপার, নিয়ম ভঙ্গ করে সড়কে গাড়ি পার্কিংসহ নানা কারন।

জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি গোলাকান্দাইল এলাকা অতিক্রম করেছে। এ দুটি সড়ক যোগে চলাচল করছে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাম্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদীসহ প্রায় ৪০ জেলার যানবাহন। আর ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকা যানজটের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিলো । তবে, চার তলা বিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার চালু হওয়ার পর থেকে এখান থেকে এখন আর যানজট সৃষ্টি হয়না।

তবে ফ্লাইওভারটির এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের অংশের যানজট এখন নিত্যদিনের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা থেকে শুরু করে যাত্রামুড়া এলাকা পর্যন্ত ছোট বড় সব মিলিয়ে প্রায় শতাধীক শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সকালে কাজে যোগদান, দুপুরের খাবারের সময় এবং রাতের ছুটির সময় ওভারব্রীজ না থাকার কারনে শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হয়। এতে সড়ক পারাপারের সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। এছাড়া যত্রতত্র গাড়ির কাউন্টার, অটো ষ্টেশনের কারনে যানজট সৃষ্টি হয়। আর যানজট নিরসন করতে গিয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে সিটি গ্রুপের শত শত ট্রাক প্রবেশ করতে গিয়ে রূপসী বাসস্টেশন এলাকায় প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকছে। এর একটি সমাধান চায় স্থানীয়রাও। অপর দিকে, এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কটি প্রশস্থ্য অনেকটা কম। গাড়ি ওভারটেকিং করতে গিয়ে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আর সড়ক দুর্ঘটনার কারনেও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।

কোন কারনে যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে এক পাশ বন্ধ হয়ে যায় এবং অপরপাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়। এ সড়কে বেশির ভাগ যানজট সৃষ্টি হয় নিয়ম ভঙ্গ করে যানাবাহন চলাচলের কারনে। বিশেষ করে রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন টোলপ্লাজা এলাকা থেকে শুরু করে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত প্রায় নিত্যদিনের যানজট লেগে থাকে। এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বেশ কয়েক স্থানে বালুর ব্যবসা গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর এসব বালু ট্রাক যোগে বিভিন্ন স্থানে সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে। এসব ট্রাকের কারনেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের কাঞ্চন টোলপ্লাজা এলাকা থেকে গোলাকান্দাইল এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বরপা থেকে যাত্রামুড়া এলাকা ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তির শিকার হয়ে অনেক যাত্রী সাধারন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কথা হয় বাসযাত্রী আমজাদ হোসেনের সঙ্গে বলেন, আমি পাবনা থেকে প্রায় সময়ই এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক যোগে ঢাকায় আসি। প্রায় সময়ই এ সড়ক যোগে এসে কাঞ্চন টোলপ্লাজা এলাকায় যানজটে পড়ি। টোলপ্লাজা এলাকায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারনে যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।

করটিয়ার কাপড় ব্যবসায়ী সূজন মিয়া বলেন, আমি সব সময়ই করটিয়া ও গাউছিয়া পাইকারী কাপড়ের বাজার থেকে কাপড় ক্রয় করি। মালামাল নিতে গিয়ে অনেক সময় যানজটে পড়তে হয়। এতে তারা ভোগান্তির শিকার হন। ট্রাক চালক আলী আকবর বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বরাব এলাকায় স্থানীয় অটো রিকশা চাঁদাবাজদের কারনে যানজট লেগে থাকে। কিছু বলতে গেলে যানবাহন চালকদের মারধর করে।
বিশ^রোড এলাকার টিআই রফিকুল ইসলাম রূপগঞ্জ প্রতিদিনকে বলেন, শিল্প এলাকা গুলোতে ওভারব্রীজ করে দিলে যানজট হতো না। একদিকে ধুলাবালি আর অন্যদিকে যানজট। আর যানজট নিরসন করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছেন। আর যানজট নিরসন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। তবে আগের তুলনায় এখন যানজট অনেকটা কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here